গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশিত: 10:19 AM, September 13, 2020

জাগ্রত বাংলাদে

রাজধানীর গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উধাও হয়ে গেছে। যেন করোনাভাইরাস বলে কিছুই নেই। সরকার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। জরিমানার অঘোষিত বিধানও করা হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ গণপরিবহনে হেলপার-কন্ডাক্টর মাস্ক পরছেন না। যাত্রী ওঠানোর সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা। সেটিও এখন কোনো গাড়িতে দেখা যাচ্ছে না। যাত্রীদের একটি বড় অংশও ‘নো করোনা’ মুডে চলাফেরা করছেন। তবে সরকার সংশ্লিষ্টদেরও তেমন কোনো তৎপরতা বা অভিযান চোখে পড়ছে না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলাফেরাটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। করোনাভাইরাস এখনো শক্তভাবে রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে মৃত্যু ও শনাক্তের খবর আসছে। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে এটা ঠিক। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। কমপক্ষে মাস্ক পরতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। পারলে হ্যান্ড গ্লাভসও পরতে হবে।

তারা বলেন, সরকার বিষয়টি এড়িয়ে গেলে ভুল করবে। সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। এটা একদিকে ভালো। কাজকর্ম চলছে। অর্থনীতি সচল হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন হতে হবে। সরকার-সংশ্লিষ্টদেরও কঠোর হতে হবে। অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে অভিযান বাড়াতে হবে। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ‘যত সিট তত যাত্রী’ এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক নির্দেশনার মধ্যে আগের ভাড়া কার্যকরের ভিত্তিতে সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগের মধ্যে পড়ে। যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন চালক ও কর্মীরা গাছাড়াভাবে চলছেন। অনেকে মাস্ক পর্যন্ত পরছেন না। ভালো ব্যবহারও করছেন না। ভাড়াও দাবি করা হচ্ছে ইচ্ছেমতো। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সব আসন পূর্ণ করেই চলছে গণপরিবহন। সিট ছাড়া দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহন চলছে। স্বাস্থ্যবিধি নেই বললেই চলে। বেশির ভাগই মাস্ক পরছেন না। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার নেই।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের শনিরআখড়া অংশে যাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। বাস আসে। বাস থামে। হেলপারদের হাঁকডাক। অনেকে মাস্ক পরেননি। যে যার মতো উঠছেন-নামছেন। বাসের মধ্যে লাইনে দাঁড়ানো বাড়তি যাত্রী। তাদেরও স্বাস্থ্য সচেতনতা কম।

এ প্রসঙ্গটি তুললে কয়েকজন বলেন, করোনার দিকে তাকিয়ে লাভ নেই। যা হওয়ার তাই হবে। তবে কয়েকজন বলেন, মাস্ক পরলে অনেকটা নিরাপদ। ধুলা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু দম বন্ধ হয়ে আসে। এজন্য পকেটে থাকলেও পরা হয় না। কয়েকজন হেল্পারের সঙ্গে কথা বললে তারাও এমনটি জানান।

সচেতন কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, করোনাকালেই অনেক গণপরিবহন নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পারেনি। সে সময়ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার বা স্বাস্থ্যবিধি দেখা যায়নি। আর এখন তো সব খোলা। তারা অভিযোগ করেন, প্রতি আসনে যাত্রী পরিবহন করলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হয় না। ভাড়া নিয়েও প্রতি সময় হেল্পারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করতে হয়। প্রতিটি সিটেই যাত্রী তোলা হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

কাজলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, কী আর করা। বাধ্য হয়েই বাসে যাতায়াত করতে হয়। ভাড়া বেশি নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। আমরা তো অসহায়। আমাদের এভাবেই চলাফেরা করতে হবে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা উচিত। তবে যাত্রীদের অসেতনতার বিষয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। রাজু নামে একজন বলেন, যেভাবে চলছে, একে আমি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালাতে শ্রমিকদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। সরকারের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তার সবই আমরা তাদের অবহিত করেছি। আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজখবরও রাখছি।

সার্বিক বিষয়ে বিআরটিএর উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। জেল-জরিমানার পাশাপাশি তারা যানবাহনের কাগজপত্রও জব্দ করছেন।