ছয় শিল্প এলাকায় মে মাসের বেতন পরিশোধ হয়নি ৩৭২৩ কারখানার

প্রকাশিত: 8:02 PM, June 19, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক:

দেশের শিল্প অধ্যুষিত ছয় এলাকায় (আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনা) উৎপাদনমুখী সব খাতের শিল্প-কারখানা আছে ৭ হাজার ৬০২টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭২৩টি কারখানা এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের মে মাসের বেতন পরিশোধ করেনি। যদিও শ্রম আইন অনুযায়ী মাসের প্রথম সাত কর্মদিবসের মধ্যে আগের মাসের বেতন পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণেই এ ছয় শিল্প এলাকায় একক খাতভিত্তিক কারখানার সংখ্যা বেশি। এ ছয় এলাকায় শুধু পোশাক খাতকেন্দ্রিক কারখানা আছে ৩ হাজার ৩৭২টি। শ্রমিকদের মে মাসের বেতন পরিশোধ না করা কারখানাগুলোর মধ্যেও পোশাক খাতকেন্দ্রিক কারখানার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, ছয় শিল্প এলাকায় পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সদস্য কারখানা আছে মোট ১ হাজার ৮৮২টি। এর মধ্যে শ্রমিকদের মে মাসের বেতন পরিশোধ করেনি ৭৩৭টি কারখানা। এসব এলাকায় পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের আরেক সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য ১ হাজার ১০১টি কারখানার মধ্যে বেতন পরিশোধ করেনি ৮০৮টি। পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পোদ্যোক্তাদের সংগঠন বিটিএমএর এ ছয় এলাকায় সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা ৩৮৯টি কারখানা। এর মধ্যে বেতন পরিশোধ করেনি ২১০টি কারখানা।

বেপজার আওতাধীন ৩৬৪টি কারখানার মধ্যে শ্রমিকদের মে মাসের বেতন দেয়নি ৫৮টি কারখানা। ছয় শিল্প এলাকায় বস্ত্র ও পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বেপজার আওতাভুক্ত কারখানার বাইরে চামড়াজাত পণ্য, আসবাব, সেলফোন সংযোজন, ওষুধ সব খাত মিলিয়ে অন্যান্য খাতের কারখানা আছে ৩ হাজার ৮৬৬টি। এর মধ্যে মে মাসের বেতন পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৯১০।

এ ছয় শিল্প এলাকার কারখানাগুলোয় বর্তমানে ৪০-৪১ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন বলে শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।জানতে চাইলে শিল্প পুলিশ সদরদপ্তরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, বেতনপরিশোধ নিয়ে শিল্প এলাকাগুলোয় যাতে কোনো অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সেবিষয়ে আমরা তদারকি করছি। পোশাক শিল্প মালিক সংগঠনবিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে অনুরোধ করছিবকেয়া পরিশোধের জন্য।

যদিও বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য ১ হাজার ৯২৬ কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৫৩৮টি কারখানা মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বাকি ৩৮৮টি কারখানার।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী শুধু মে মাস নয়, এ ছয় শিল্প এলাকায় মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেনি এমন কারখানাও রয়েছে। এর মধ্যে মার্চের বেতন দেয়নি এমন কারখানার সংখ্যা ২৬১। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ৩৬টি। বিকেএমইএর সদস্য কারখানা ৩১টি। বিটিএমএর সদস্য নয়টি। বেপজার আওতাধীন কারখানাগুলোর মধ্যে বেতন না দেয়া কারখানার সংখ্যা পাঁচ। পোশাক শিল্পকেন্দ্রিক কারখানাগুলোর বাইরে অন্যান্য কারখানা আছে ১৮০টি।

এ ছয় শিল্প এলাকায় এপ্রিলের বেতন পরিশোধ না করা কারখানার সংখ্যা ৭১০। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১৫২টি। বিকেএমইএর সদস্য কারখানা ৫৩টি। বিটিএমএর সদস্য ৩১টি। বেপজার আওতাধীন কারখানাগুলোর মধ্যে এপ্রিলের বেতন দেয়নি আটটি কারখানা। এ ধরনের অন্যান্য খাতের কারখানা রয়েছে ৪৬৬টি।

কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় ২৬ মার্চ। রফতানিমুখী শিল্পের ক্রেতা দেশগুলোর প্রায় সবকয়টিতেই এর আগেই লকডাউন শুরু হয়ে যায়। প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর গত ২৬ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের শিল্প-কারখানাগুলো সচল হতে শুরু করে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারখানা বন্ধ থাকা, ক্রেতা দেশগুলো থেকে নতুন কাজের অভাব ও বিদ্যমান ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত সবকিছু মিলিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শিল্প-কারখানাগুলো। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই প্যাকেজ থেকে কারখানাগুলোর শ্রমিকদের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসের বেতন পরিশোধ করার কথা।