প্রেমিকের কাণ্ড, শাখা-সিঁদুর পরিয়ে রাত্রিযাপন

প্রকাশিত: 7:10 PM, June 18, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক: মাগুরা সদর উপজেলার ২ নং আঠারোখাদা ইউনিয়নের মিরকিডাঙ্গা গ্রামের শান্তিরাম মণ্ডলের মেয়ে পপি মণ্ডলের (২৫) সাথে একই ইউনিয়নের ধনুখালি গ্রামের মৃত পরিমল বিশ্বাসের ছেলে মিন্টু বিশ্বাস (৩১) দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের জেরে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

কলেজ জীবনে এই প্রেমিক জুটির প্রায় পাঁচ বছরের প্রেম। কয়েক মাস ধরে প্রেমিকার বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া দেয় না প্রেমিক। পরে সুযোগ পেয়ে প্রেমিককে ঝাপটে ধরে প্রেমিকার একই কথা ‘আমাকে বিয়ে করো, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।’

পরে বিষয়টি গড়ায় মাগুরা জেলা সদর থানা পুলিশ পর্যন্ত। করা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা।

মিন্টু সোনালী ব্যাংক কাশিয়ানী উপজেলা শাখায় সিনিয়র অফিসার।

১৫ জুন মাগুরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী এবং ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করার জন্য একটি ভিডিও বার্তা দেন ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী। মিন্টু তার কর্মস্থল ফরিদপুর জেলায় কাশিয়ানী উপজেলায় নিজ বাসায় নিয়ে শাঁখা সিঁদুর পরিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে রাত্রিযাপন করে।

তিনি আরও বলেন, মিন্টু আমাকে তার একাধিক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়, বিভিন্ন সময় আমাদের মাঝে নানা শারীরিক সম্পর্ক হয়। মন্দিরে সে আমাকে সিন্ধুর পরিয়ে দেয়।

বাদি পপি মণ্ডল ১৫ জুন মাগুরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। আসামি নাছোড়বান্দা প্রেমিক আগে বিয়ে করতে রাজি হলেও এখন বেঁকে বসেছে। এখন আর বিয়ে করবে না।

তাই পাঁচ বছর প্রেমে শেষে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে প্রেমিকা। পপি মাগুরা আদর্শ কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একবার পপি আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এরপর থেকে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় প্রেমিক মিন্টু, কিন্তু ততদিনে পপির বিয়ের বেশ কয়েকটি সম্বন্ধ ফিরে যাওয়ায় তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েন। সে এখনো মনে করে সব ঠিক হয়ে যাবে এবং তাদের আবার সামাজিকভাবে বিয়ে হবে।

মিরকিডাঙা গ্রামের বাসিন্দা পপির পরিবারের মন্তব্য পেলেও ধনুখালী গ্রামের বাসিন্দা মিন্টু বিশ্বাসের বাড়িতে গেলেও তাদের পরিবারের কোনো সদস্যের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

আঠারোখাদা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জিবন বলেন, ওই বিষয়টি উভয় পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে জুরিবোর্ড গঠন করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ‘উভয় পরিবার আজ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সামাজিকভাবে তাদের পুনরায় বিয়ে দেবেন।

মিন্টুর প্রতিবেশীদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। তারা আরো বলেন, আমাদের কোনো বিষয় জানা নেই।