করোনা আক্রান্ত সংখ্যায় চিনকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: 6:24 PM, June 13, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

বৈশ্বিক নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যায় উৎপত্তিস্থল চিনকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। চিনের উহান থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হয়।

শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৭৯ জন। অন্যদিকে চিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত আপডেট দেওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটার জানায়, চিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭৫ জন।

আর দেশটিতে মারা গেছেন চার হাজার ৬৩৪ জন। অপরদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন এক হাজার ১৩৯ জন।জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, মোট আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৯তম।

আর মৃত্যুর সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে ৩১তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ ভারতে তিন লাখের বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৯ হাজার জন।

আর পাকিস্তানে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩২ হাজার। মৃত্যু হয়েছে আড়াই হাজার। করোনা ভাইরাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ২১ লাখ ১৭ হাজার ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুই হাজার ৮৫৬ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ৪৪ জন। নতুন মৃত্যু হওয়া ৪৪ জনের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী।

দেশে ৫৯টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৭ হাজার ৮২৭ জন। ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে মারা যাওয়া ৪৪ জনের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী।

যে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা ঢাকা বিভাগের ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগের চারজন, সিলেট বিভাগের দুইজন, বরিশাল বিভাগের চারজন, রংপুর বিভাগের একজন এবং খুলনা বিভাগের একজন।

হাসপাতালে মারা গেছেন ২৭ জন, বাসায় ১৪ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয় তিনজনকে।এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৭৮ জন।

এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৮২৭ জন। ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৪  হাজার ৩৫টি। একই সময় পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩৮টি।  গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো পাঁচজন।

এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৩৩২ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।