বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন এবং আমদানী: একটি পর্যালোচনা ড. মো: কামরুল হাসান

প্রকাশিত: 5:34 PM, June 13, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জনসাধারনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর একটি অন্যতম অপরিহার্য এবং জনপ্রিয় খাদ্য উপকরণ হলো পেঁয়াজ। পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশে সবজি হিসাবে ব্যবহৃত হলেও দক্ষিন এশিয়ার খাদ্যে পেঁয়াজ একটি মৌলিক উপকরন এবং প্রায় সব রান্নাতেই মসলা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পেঁয়াজে আমিষ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং রোগ প্রতিরোধী নানা ঔষধি গুনের কারনে সারা বিশ্বেই এর বিস্তর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই কম বেশী পেঁয়াজ আবাদ হলেও বিশ্বের মোট উৎপাদনে চীন (২৫%) এবং ভারত (২৩%) প্রায় অর্ধেক যোগান দিয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন যেমন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিপেয়েছে তেমনি বৃদ্ধিপেয়েছে এর আমদানী নির্ভরতা। পরিসংখ্যানে কিছুটা গড়মিল থাকলেও বিগত ৪/৫ বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন ১৭.০-১৮.০ লক্ষমেট্রিক টনে মোটামোটি স্থিতিশীল রয়েছে (বিবিএস ২০১৭,২০১৯)। বিপরীতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা বৃদ্ধিরকারনে বিগত পাঁচ বছরে আমদানীর পরিমান প্রায় আড়াই গুন বৃদ্ধিপেয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধিএবং আমদানী বৃদ্ধিরএই প্রেক্ষাপটে পেঁয়াজের চাহিদা ও যোগান সম্পর্কিত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষননিম্নে উপস্থাপন করা হলো।

ক) বাংলাদেশে পেঁয়াজের আবাদ, উৎপাদন এবং ফলন:
বিগত ১০ বৎসরের পেঁয়াজের উৎপাদন চিত্রথেকে দেখা যায় যে, ২০০৮-০৯ সালে ১.০৮ লক্ষহেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে উৎপাদন পাওয়া গিয়েছিল ৭.৩৫ লক্ষমেট্রিক টন। অর্থ্যাৎ হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছিল ৬.৮১ টন। পরবর্তী ১০ বৎসরে আবাদী জমি এবং উৎপাদনের পরিমান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিপেয়ে ২০১৭-১৮ সালে ১.৭৮ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদন পাওয়া গিয়াছে ১৭.৩৮ লক্ষমেট্রিক টন। অর্থ্যাৎ ১০ বৎসরে চাষাধীন জমির পরিমান বৃদ্ধিপেয়েছে প্রায় ৬৫ ভাগ এবং উৎপাদনের পরিমান বৃদ্ধিপেয়েছে ১৩৬ ভাগ বা ২.৩৬ গুন। মুলত: নতুন জাত ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বারা হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধির কারনে এই বর্ধিত উৎপাদন পাওয়া গিয়াছে। এই সময়কালে হেক্টর প্রতি ফলন ৬.৮১ টন থেকে বৃদ্ধিপেয়ে ৯.৭৬ টন হয়েছে (সারনী-১ এবং চিত্র-১)।

সারনী-১: বাংলাদেশে পেঁয়াজের আবাদ, উৎপাদন এবং ফলন
সাল বিবিএস প্রদত্ত তথ্য ডিএই প্রদত্ত হিসাব বিবিএস থেকে ডিএই প্রদত্ত হিসাবে বেশী
আবাদী জমি(লক্ষ হে:) উৎপাদন(লক্ষমে.টন) ফলন (টন/হে:) আবাদী জমি(লক্ষ হে:) উৎপাদন
(লক্ষ মে.টন) ফলন (টন/হে:) আবাদী জমি (%) উৎপাদন (%)
২০০৮-০৯ ১.০৮ ৭.৩৫ ৬.৮১ ১.৫৮ ১৪.১২ ৮.৯৪ ৪৬ ৯২
২০০৯-১০ ১.১৮ ৮.৭২ ৭.৫৪ ১.৬২ ১৫.৭১ ৯.৭০ ৩৭ ৮০
২০১০-১১ ১.২৮ ১০.৫২ ৮.২২ ১.৭২ ১৭.২২ ১০.০১ ৩৪ ৯৪
২০১১-১২ ১.৩৬ ১১.৫৯ ৮.৫২ ১.৭৯ ১৮.১৫ ১০.১৪ ৩২ ৫৭
২০১২-১৩ ১.৩৪ ১১.৬৮ ৮.৭২ ১.৮১ ১৯.১৪ ১০.৫৭ ৩৫ ৬৪
২০১৩-১৪ ১.৫১ ১৩.৮৭ ৯.১৯ ১.৮৭ ১৭.০১ ৯.১০ ২৪ ২৩
২০১৪-১৫ ১.৭০ ১৭.০৪ ১০.০২ ১.৯২ ১৯.৩০ ১০.০৫ ১৩ ১৩
২০১৫-১৬ ১.৭৭ ১৭.৩৫ ৯.৮০ ২.০৩ ২১.৩০ ১০.৪৯ ১৫ ২৩
২০১৬-১৭ ১.৮৬ ১৮.৬৭ ১০.০৪ ২০১৩ ২১.৫৩ ১০.১১ ১৫ ১৫
২০১৭-১৮ ১.৭৮ ১৭.৩৮ ৯.৭৬ ২.০৭ ২৩.৩০ ১১.২৬ ১৬ ৩৪
সূত্র: বিবিএস (২০১৪, ২০১৭, ২০১৯); কৃষি তথ্য সার্ভিসের কৃষি ডায়েরী (২০১০-২০১৯)
বিগত বছরগুলোতে পেয়াজের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যপরিমানে বৃদ্ধিপেলেও তা অভ্যন্তরীন চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় বিপুল পরিমান পেঁয়াজ আমদানী করতে হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে যেখানে পেঁয়াজ আমদানী করা হয়েছে ১.৩৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন সেখানে ২০১৭-১৮ সালে আমদানীর পরিমান দাড়ায় ১০.৬৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন (সারনী-৫)। অর্থ্যাৎ ১০ বৎসরে উৎপাদন বেড়েছে ২.৩৬ গুন আর আমদানী বেড়েছে ৭.৯০ গুন। ২০১৪-১৫ সাল থেকে বিগত চার বছরে উৎপাদনের পরিমান স্থিতিশীল (১৭ – ১৮ লক্ষমেট্রিক টন) থাকলেও আমদানীর পরিমান সোয়া চার লক্ষ মেট্রিক টন থেকে বৃদ্ধিপেয়ে সাড়ে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে দেশে পেঁয়াজের যোগান (অভ্যন্তরীন উৎপাদন + আমদানী) যেখানে ২১.২৭৪ লক্ষমেট্রিক টন ছিল সেখানে চার বছরের ব্যবধানে ২০১৭-১৮ সালে তা বৃদ্ধিপেয়ে ২৮.০২৩ লক্ষ মেট্রিক টন হয়েছে। অর্থ্যাৎ পেঁয়াজের যোগান বেড়েছে প্রায় ৩২ ভাগ।

চিত্র-১: বাংলাদেশে পেঁয়াজ চাষাধীন এলাকা, উৎপাদন ও ফলন
খ) পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা:
পেঁয়াজের যোগান বৃদ্ধিরএই প্রবনতাকে চাহিদা বৃদ্ধিরফল বলে গন্য করা যেতে পারে। হাউজহোল্ড ইনকাম এন্ড এক্সপেনডিচার সার্ভে ২০১৬ প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, ২০১০ সালে মাথাপিছু দৈনিক পেঁয়াজের ভোগ ছিল ২২ গ্রাম যা ২০১৬ সালে ৩১.০৪ গ্রামে উন্নীত হয় (বিবিএস ২০১৯)। অর্থ্যাৎ বার্ষিক মাথাপিছু ১.৫১ গ্রাম হারে পেঁয়াজের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে (সারনী-৪)। সে হিসাবে ২০১৭-১৮ সালে পেঁয়াজের মাথাপিছু দৈনিক চাহিদা দাঁড়ায় (৩১.০৪ + ১.৫২ * ২=) ৩৪.০৬ গ্রাম। ২০১৭-১৮ সালের জনসংখ্যা দ্বারা গুন করে ভোগের জন্য পেঁয়াজের মোট বার্ষিক চাহিদা পাওয়া যায় (৩৪.০৬ * ১৬.৫০ * ৩৬৫/১০০০=) ২০.৫১ লক্ষ মেট্রিক টন। তাছাড়া পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্যপেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশে মোট ১.৭১ লক্ষহেক্টর (পেঁয়াজ আবাদের জমির ৮২%) জমি আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় চারা উৎপাদনে যে বীজের প্রয়োজন হয় তার জন্য পেঁয়াজ কন্দ লাগে ০.০৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন (সারনী-২)। আবার ০.৩১২ লক্ষ হেক্টর (পেঁয়াজ আবাদের জমির ১৫%) জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্যপেঁয়াজ কন্দের প্রয়োজন হয় ০.৪৬৮ লক্ষ মেট্রিক টন (হেক্টর প্রতি ১.৫০ টন হিসাবে)। এর বাহিরে পেঁয়াজের আরেকটি ব্যবহার হলো প্রসেসিং শিল্প এবং ঔষধ-শিল্প বিশেষ করে ইউনানী ও আয়ুর্বেদ ঔষধ তৈরীতে ব্যবহার। বিভিন্ন তথ্য মতে এক্ষেত্রেও প্রায় ১.০ লক্ষ টন পেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে। তাহলে সব মিলিয়ে পেঁয়াজের বার্ষিক নীট চাহিদা দাঁড়ায় ২২.০২১ লক্ষ মেট্রিক টন (সারনী-২)।

সারনী-২: বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা
ক্রমিক নং বিবরন ২০১৭-১৮ সালে চাহিদার পরিমান (লক্ষ মেট্রিক টন)
১. মানুষের খাদ্য হিসাবে বার্ষিক চাহিদা (দৈনিক মাথাপিছু ভোগ ৩৪.০৬ গ্রাম হিসাবে) ২০.৫১
২. বীজ উৎপাদনের জন্য চাহিদা (প্রতি হেক্টরে ২৫ কেজি কন্দের বীজ হিসাবে ১.৭১ লক্ষ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ কন্দের পরিমান)* ০.০৪৩
৩. মুুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনে চাহিদা (প্রতি হেক্টরে ১.৫০ টন হিসাবে ০.৩১২ লক্ষ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ কন্দের পরিমান) ০.৪৬৮
৪. প্রসেসিং শিল্প ও ঔষধ শিল্প বিশেষ করে ইউনানী ও আয়ুর্বেদ ঔষধ তৈরীতে ব্যবহার ১.০০
৫. পেঁয়াজের নীট চাহিদা ২২.০২১
*প্রতি কেজি বীজ উৎপাদনে ৬.২৫ কেজি কন্দ লাগে। প্রতি হেক্টরে চারা লাগে ৪ কেজি বীজের। অতএব এক হেক্টর জমি রোপনের জন্য যে পরিমান চারার প্রয়োজন হয় তা উৎপাদনের জন্য ৬.২৫ * ৪ = ২৫ কেজি পেঁয়াজ কন্দ প্রয়োজন পড়ে।

গ) পেঁয়াজের বার্ষিক যোগান:
২০১৭-১৮ সালে পেঁয়াজের অভ্যন্তরীন উৎপাদন ছিল ১৭.৩৮ লক্ষমেট্রিক টন। কিন্তু পেঁয়াজ পঁচনশীল পন্য বলে মোট উৎপাদনের প্রায় ২৫% সংগ্রহোত্তর অপচয় হিসাবে গন্য করা হয়। ফলে ব্যবহার উপযোগী পেঁয়াজের পরিমান দাঁড়ায় ১৩.০৩৫ লক্ষ মেট্রিক টন (সারনী-৩)। আবার ঐ বৎসরের আমদানীকৃত পেঁয়াজের একটি অংশও বিতরন পর্যায়ে ক্ষতি হয় যা কমবেশী ৫% হিসাবে গন্য করা যেতে পারে। সে হিসাবে আমদানীকৃত ১০.৬৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী পেঁয়াজ হলো ১০.১১ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে মানুষের ব্যবহারের জন্য নীট প্রাপ্য পেঁয়াজের পরিমান হলো (১৩.০৩৫+১০.১১=) ২৩.১৪৬ লক্ষ মেট্রিক টন (সারনী-৩)। এখানে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২২.০২১ লক্ষ মেট্রিক টনের বিপরীতে সরবরাহ ২৩.১৪৬ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থ্যাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বেশী। পেঁয়াজ পঁচনশীল পন্য বলে বাজারে এর সরবরাহ সবসময় কিছুটা বেশী রাখা হয়।

সারনী-৩: বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক যোগান
ক্রমিক নং বিবরন ২০১৭-১৮ সালে যোগানের পরিমান (লক্ষ মেট্রিক টন)
১ মোট দেশেজ উৎপাদন ১৭.৩৮
২ পেয়াজের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি (মোট দেশেজ উৎপাদনের ২৫%) ৪.৩৪৫
৩ ব্যবহার যোগ্য নীট প্রাপ্য উৎপাদন (১ – ২) ১৩.০৩৫
৪ মোট আমদানী ১০.৬৪৩
৫ আমদানীকৃত পেঁয়াজের বিতরন পর্যায়ে ক্ষতি (৫% হিসাবে) ০.৫৩২
৬ আমদানীকৃত পেঁয়াজের নীট প্রাপ্যতা (৪ – ৫) ১০.১১
৭ মানুষের ব্যবহারের জন্য নীট প্রাপ্যতা (৩ + ৬) ২৩.১৪৬

ঘ) পেঁয়াজের ভোগ (ঈড়হংঁসঢ়ঃরড়হ):
পেঁয়াজের ভোগ সময়ের সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৫ সালে সেখানে পেঁয়াজের মাথাপিছু দৈনিক ভোগ ছিল ১১.৬০ গ্রাম, ২১ বছরের ব্যবধানে তা প্রায় তিনগুন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে মাথাপিছু দৈনিক ৩১.০৪ গ্রাম হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে পেঁয়াজের মাথাপিছু বার্ষিক ভোগ ১.৫১ গ্রাম হারে বৃদ্ধি পেয়েছে (সারনী-৪, চিত্র-২)। বিগত ২১ বৎসরের (১৯৯৫-২০১৬) মাথাপিছু পেঁয়াজ ভোগের পরিমান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে ২০১৬ সালের পর পেঁয়াজের মাথাপিছু ভোগ বার্ষিক ১.৫১ গ্রাম হারের চেয়েও বেশী পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিরফলে মাথাপিছু পেঁয়াজের ব্যবহার বৃদ্ধি খুবই স্বাভাবিক। মাথাপিছু চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আগত প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীর চাহিদাও এখানে বিবেচনাযোগ্য।

সারনী-৪ বিভিন্ন সময়ে পেঁয়াজের ভোগ
সাল ভোগের পরিমান মাথাপিছু দৈনিক (গ্রাম) বার্ষিক মাথাপিছু ভোগের বৃদ্ধি (গ্রাম)
১৯৯৫ ১১.৬০ –
২০০০ ১৫.৪১ ০.৭৬২
২০০৫ ১৮.৩৭ ০.৫৯২
২০১০ ২২.০০ ০.৭২৬
২০১৬ ৩১.০৪ ১.৫০৭
সূত্র: বিবিএস (২০১৭এ)

চিত্র-২: বাংলাদেশে পেঁয়াজের মাথাপিছু দৈনিক ভোগ
(ঙ) পেঁয়াজ আবাদ এবং উৎপাদন সম্পর্কিত তথ্যে অসামঞ্জস্যতা:
পেঁয়াজ চাষের এলাকা এবং উৎপাদনের যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তা মূলতদুইটি উৎস থেকে। একটি কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর (ডিএই) এবং অপরটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। পেঁয়াজ চাষের এলাকা এবং উৎপাদনের যে হিসাব এই দুই সূত্রথেকে পাওয়া যায় তার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। যেমন ২০১৭-১৮ সালে ডিএই এর হিসাব মতে ২.০৭ লক্ষহেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ২৩.৩০ লক্ষমেট্রিক টন উৎপাদন পাওয়া গিয়াছে। যেখানে বিবিএস ঐ বছর বলছে ১.৭৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ১৭.৩৮ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ কন্দ উৎপাদিত হয়েছে। পূর্ববর্র্তী বছর গুলিতেও অনুরূপ ব্যবধান সুস্পষ্ট। চাষের এলাকা এবং উৎপাদন উভয়ের ক্ষেত্রেই ডিএই এর প্রাককলন বিবিএস এর প্রাককলনের চেয়ে বেশি (চিত্র-৩)। ডিএইর উৎস থেকে উৎপাদনের যে তথ্য পাওয়া যায় তা বিবিএস উৎসের উৎপাদন থেকে অনেক বেশি। আবার পেঁয়াজ চাষের আওতাধীন এলাকার মধ্যেও অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। ২০০৮-০৯ সাল থেকে ২০১৭.১৮ সাল পর্যন্ত বিবিএস এবং ডিএই সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায় যে পেঁয়াজ আবাদী জমি ডিএই এর হিসাবে বিবিএস এর হিসাব থেকে ১৩-৪৬% বেশি দেখানো হয়েছে। আবার উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরো বেশি ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে। এই সময়কালে বিভিন্ন বছরে ডিএই এর হিসাবে ১৩-৯২% বেশি উৎপাদন দেখানো হয়েছে (সারনী-১)। এর মধ্যে কাদের পরিসংখ্যান অসামঞ্জস্যপূর্ন বা ত্রুটিযুক্ত তা বলার মত যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত গবেষকদের নিকট নেই। তবে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, একই বিষয়ে দুই রকম তথ্য বাস্তাবকভাবে হওয়ার কোন সুযোগ নাই। এই অসামঞ্জস্যতা দূর করার জন্য ডিএই এবং বিবিএস আলোচনাক্রমে একক সিদ্ধান্তে আসতে পারে।

চিত্র-৩: বিবিএস এবং ডিএই প্রাক্কলনের তুলনা

(চ) পেঁয়াজ আমদানীর ফলে দেশের ব্যয় বৃদ্ধি:
পেঁয়াজ আমদানীর ফলে দেশের প্রকৃত ব্যয় নিশ্চিত ভাবেই বেড়েছে। এই ব্যয় বৃদ্ধিদুই দিক থেকে সংগঠীত হয়েছে। প্রথমত প্রতি বৎসর বেশি পরিমানে পেঁয়াজ আমদানী করতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দর প্রতি বৎসরই কিছু না কিছুবৃদ্ধিপেয়েছে। বাংলাদেশে পেঁয়াজের আমদানী চিত্র থেকে দেখা যায় যে ২০০৮-০৯ সালে ১.৩৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানীতে ব্যয় হয়েছিল ২২২.৩১ কোটি টাকা যা ১০ বৎসরের ব্যবধানে ২০১৭-১৮ সালে ১৫.৩৫ গুন বৃদ্ধিপেয়ে ৩৪১২.২৭ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ আমদানীর পরিমান ৭.৯০ গুন বৃদ্ধিপেলেও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫.৩৫ গুন। এমনকি বিগত ৫ বৎসরে (২০১৪-২০১৮) আড়াইগুন আমদানী বৃদ্ধির বিপরীতে আমদানী ব্যয় বৃদ্ধিপেয়েছে ৪.৬৫ গুন। সুতরাং একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, বিগত বছর গুলোতে পেঁয়াজের আমদানীর পরিমান বৃদ্ধির সাথে সাথে আমদানী ব্যয় বর্ধিত হরে বৃদ্ধিপেয়েছে। ২০০৮-০৯ সালকে ভিত্তি বিবেচনা করে পেঁয়াজ আমদানীর পরিমানের তুলনামূলকবিশ্লেষনথেকে দেখা যায় যে ১০ বছরে পেঁয়াজ আমদানীর পরিমান বেড়েছে ৬৯০ ভাগ। কিন্তু এই সময়কালে আমদানী ব্যয় বেড়েছে ১৪৩৫ ভাগ (সারনী-৫)। অর্থাৎ আমদানী ব্যয় বর্ধিত হারে বৃদ্ধিপেয়েছে।

সারনী-৫: বাংলাদেশে পেঁয়াজের আমদানী ও ব্যয়
সাল আমদানীর পরিমান
(লক্ষ মে.টন) আমদানী ব্যয়
(কোটি টাকা) ২০০৮-০৯ সাল থেকে বৃদ্ধি (%)
আমদানীর পরিমানে আমদানী ব্যয়ে
২০০৮-০৯ ১.৩৪৭ ২২২.৩১ – –
২০০৯-১০ ০.৭৩৬ ১৫১.৫২ (-) ৪৫ (-) ৩২
২০১০-১১ ১.৬১০ ৪৪৫.১৫ ২০ ১০০
২০১১-১২ ২.২৮৮ ৮২২.৭০ ৭০ ২৭০
২০১২-১৩ ৪.৭৭৪ ১৭৮৪.৮০ ২৫৪ ৭০৩
২০১৩-১৪ ৪.৩০০ ৭৩৩.২৮ ২১৯ ২৩০
২০১৪-১৫ ৪.২৩৪ ১০৬৬.৭১ ২১৪ ৩৮০
২০১৫-১৬ ৫.৭৬১ ১৫৩৫.২২ ৩২৮ ৫৯১
২০১৬-১৭ ১০.৯৮৪ ২৪৬২.৪৮ ৭১৫ ১০০৮
২০১৭-১৮ ১০.৬৪৩ ৩৪১২.২৭ ৬৯০ ১৪৩৫
সূত্র: বিবিএস (২০১৪, ২০১৭, ২০১৯)
(ছ) বাংলাদেশে পেঁয়াজের ২০২১ সালের প্রাককলিত চাহিদা:
বাংলাদেশে ২০১৮ সালে পেঁয়াজের সরবরাহ ছিল ২৮.০২৩ লক্ষ মেট্রিক টন যা থেকে সংগ্রহোত্তর ক্ষতি এবং আমদানীকৃত পেঁয়াজের বিতরন পর্যায়ে ক্ষতি বাদ দিয়ে মানুষের জন্য নীট প্রাপ্যতা দিল ২৩.১৪৬ লক্ষ মেট্রিক টন (সারনী-৩)। কিন্তু মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি বছরই পেঁয়াজের চাহিদা কিছু না কিছু বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় ২০২১ সালের জন্য প্রস্তুতকৃত চাহিদার প্রাককলন থেকে দেখা যায় যে , পেঁয়াজের নীট চাহিদা হবে ২৫.৭৯ লক্ষ মেট্রিক টন। এই পরিমান পেঁয়াজের চাহিদা পুরন করতে হলে পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে ৩৪.৩৯ লক্ষমেট্রিক টন (সারনী-৬)। কারন উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫% সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হয়ে থাকে। এখানে খাদ্য হিসাবে মাথাপিছু বার্ষিক ভোগ দুই গ্রাম হারে বৃদ্ধি বিবেচনা করা হয়েছে। তাছাড়া পেঁয়াজের অন্যান্য ব্যবহার তিন বছরে ১০% বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধরা হয়েছে।

সারনী-৬: বাংলাদেশে পেঁয়াজের ২০২১ সালের প্রাককলিত চাহিদা
ক্রমিক নং বিবরন ২০১৭-১৮ সালে চাহিদার পরিমান (লক্ষ মেট্রিক টন)
১. মানুষের খাদ্য হিসাবে বার্ষিক চাহিদা (মাথাপিছু দৈনিক ভোগ তিন বছরে ৩৪.০৬ গ্রাম থেকে ৪০.০৬ গ্রামে বৃদ্ধি বিবেচনা করে) ২৪.৩১
২. বীজ উৎপাদনের জন্য চাহিদা (২০১৮ সালের তুলনায় ১০% বৃদ্ধি বিবেচনা করে)
০.০৪৭
৩. মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনে চাহিদা (২০১৮ সালের তুলনায় ১০% বৃদ্ধি বিবেচনা করে) ০.৫১২
৪. প্রসেসিং শিল্প এবং আয়ুর্বেদ ও ইউনানী ঔষধ শিল্পে ব্যবহার (২০১৮ সালের তুলনায় ১০% বৃদ্ধি বিবেচনা করে) ১.১০
৫. পেঁয়াজের নীট চাহিদা (১+২+৩+৪) ২৫.৭৯
৬. পেঁয়াজের মোট চাহিদা (অভ্যন্তরীন উৎপাদনের ২৫% সংগ্রহোত্তর ক্ষতি নীট চাহিদার সাথে যোগ করে) ৩৪.৩৯

(জ) চাহিদা পুরণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
পেঁয়াজের অভ্যন্তরীন উৎপাদন এবং চাহিদার মধ্যেযে বিস্তর ব্যবধান যা প্রতি বছরেই বৃদ্ধি পাচ্ছে তা পুরনের জন্য বর্ধিত হারে পেঁয়াজ আমদানী করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি এবং বেশী পরিমানে আমদানী করার কারনে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে যার পরিমান ছিল ৩৪১২.২৭ কোটি টাকা। দেশের অভ্যন্তরীন উৎপাদন পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে আমদানী নির্ভরতা কমানো প্রয়োজন। এর জন্য নিম্নরূপ পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে।
(১) উচ্চফলনশীল জাত এবং উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ: বাংলাদেশে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজের গড় ফলন ৯.০-১০.৪ টন। কিন্তু বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাতসমূহের গড় ফলন ১৪-২২ টন। প্রচলিত স্থানীয় জাতের পরিবর্তে উচ্চ ফলনশীল জাতসমুহের আবাদ বাড়িয়ে এবং পরিমিত পরিমানে সার, সেচ এর ব্যবহার করে গড় ফলন বৃদ্ধি করে বর্তমানের চেয়ে ৪-৫ লক্ষ টন বেশী উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।
(২) পেঁয়াজ চাষের এলাকা সম্প্রসারণ: বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা রবি মৌসুমে অনাবাদী থাকে। মুলত: আমন ধান কাটার পর সেচ সুবিধা না থাকায় এসব অঞ্চলে বোরো ফসলের আবাদ করা যায় না। পেঁয়াজ চাষে খুুবই কম পানির প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র এক থেকে তিনটি হালকা সেচ প্রদানেই পেঁয়াজের ভাল ফলন পাওয়া যায়। এসব এলাকার এক লক্ষ হেক্টর জমি পর্যায়ক্রমে পেঁয়াজ চাষের আওতায় আনতে পারলে ১০-১২ লক্ষ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করা যেতে পারে।
(৩) আন্তফসল হিসাবে এবং বসত বাড়ির আঙ্গিনায় চাষঃকুমিল্লা, রংপুর, দিনাজপুর, নওগাঁ, ও বরেন্দ্র এলাকায় ভূট্টা, মুখীকচু, মরিচ সহ শীতকালীন বেশ কিছু ফসলের সাথে আন্তফসল হিসাবে পেঁয়াজ চাষ করা যায়। টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রংপুর, দিনাজুুর, নওগাঁ, ও বরেন্দ্র এলাকায় স্বল্প মুল্যের ফসল সমূহের পরিবর্তে লাভজনকভাবে পেঁয়াজ চাষ করা যেতে পারে। তাছাড়া পার্বত্য জেলা সহ সারাদেশের বসত বাড়ি ও কিচেন গার্ডেনে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (বারি পেঁয়াজ ২, ৩ ও ৫) চাষ করেও দৈনন্দিন চাহিদা অনেকাংশে মেটানো সম্ভব।
(৪) বাজার তদারকী এবং উৎপাদন মৌসুমে আমদানী নিয়ন্ত্রনঃ বাজার তদারকীর ব্যবস্থা করাঃ বাজারে পেঁয়াজের যোগান যেন কেউ বাধাগ্রস্ত না করতে পারে, তার জন্য নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা রাখতে হবে। দাম কিছুটা বাড়ালেই খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা যেন হুজুগে বেশি মাত্রায় ক্রয় করে মজুদ না করেন, তার জন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আস্থার সর্ম্পক গড়ে তুলে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। কৃষক উৎপাদন মৌসুমেযেন ভালো দাম পান, তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রয়োজনে নূন্যতম দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। শুধুমাত্র ঘাটতি মৌসুমে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে) এবং অভ্যন্তরীন বাজারে পেঁয়াজের দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হলেই আমদানির ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
(৫) উপকরনে ভর্তুকী এবং ঋন সুবিধার সম্প্রসারণঃ মৌসুমে পেঁয়াজের দাম যাতে খুব বেশি কমে না যায়, তার জন্য পেঁয়াজ চাষীদের উৎপাদন খরচের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের উপকরন খরচে ভর্তুকি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পেঁয়াজকে শুধু মসলাপণ্য হিসাবে গন্য না করে বিদ্যমান স্বল্প সুদে (৪ শতাংশ হারে) ঋণ সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে বেশি সংখ্যক কৃষক পেঁয়াজ উৎপাদনে উৎসাহী হন এবং এতে পেঁয়াজের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়বে।
(৬) গবেষনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংরক্ষনাগার তৈরিঃ পেঁয়াজের উচ্চফলনশীল জাত এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণে টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। পেঁয়াজের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তাছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় ৫-৬ লক্ষ টন সংরক্ষণ উপযোগী বিশেষ ধরনের কোল্ডস্টোরেজ (৪-১০ ডিগী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা ও ৩৫-৪৫% আর্দ্রতা) নির্মাণ করে ঘাটতি মৌসুমের জন্য সংরক্ষন করা যেতে পারে।
(৭) উন্নত প্রযুক্তির বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষনঃ দেশের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদনে তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে (ফরিদপুর, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী), সেসব অঞ্চলের কৃষকদের পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষনে উন্নত প্রযুক্তির বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

——————————————————————————————————————-
লখেক: মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর (Emil-khasan41@yahoo.com)