বাজেট পেশ আগামীকাল

প্রকাশিত: 8:09 PM, June 10, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। ওইদিন বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হবে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক। এবারের বাজেটে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ এবং করোনা-পরবর্তী অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী এসময় রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের জাতীয় সংসদে তার অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে নতুন বাজেট অনুমোদনের পর তাতে রাষ্ট্রপতির অনুমতির পর তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত একটি অর্থবছর ধরা হয়। সে হিসেবে আর এক দিন পরেই অর্থাৎ ১১ জুন ২০১৯-২০২০ অর্থবছর শেষ হবে।

বাজেট এলেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—এবার কোন জিনিসের দাম বাড়বে, কোনটার কমবে? তবে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাত, বিশেষ করে করোনা প্রতিরোধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তার দিকে তাকিয়ে আছে জনগণ।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গত দুই মেয়াদকালে যে কয়টি বাজেট দিয়েছে, তাতে অন্তত একটা জিনিস লক্ষ করা গেছে, বাজেটের পর আর হইচই পড়ে না। এর অন্যতম কারণ—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাজেটের পর খুব একটা বাড়ে না। যা বাড়ার বাজেটের কয়েক মাস আগেই বেড়ে যায়। তাই সরকারকে আর বেগ পেতে হয় না।

তাছাড়া গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনীতির মাঠে মূলত একাই ব্যাট করে যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বীহীন রাজনীতির মাঠে বাজেটের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার মতো তেমন প্রতিপক্ষও নেই। এখন যেহেতু জাতীয় পার্টি পরিপূর্ণ বিরোধী দলের ভূমিকায় আছে, তাই তাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং বিএনপির ছয় সংসদ সদস্য এবার সংসদে থাকছেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। গত বছর ১৩ জুন বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটা ছিল অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেট। আগামী কাল যে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা হবে সেটি হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০তম বাজেট এবং বাংলাদেশের ৪৯তম বাজেট।

নতুন অর্থবছর হিসেবে এবার বাজেটে কোনো চমক থাকছে কি না তা জানা যাবে বাজেট পেশের দিন। এবারের বাজেটের আকার নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও বাজেট প্রণেতাদের সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। ১৯৭২-১৯৭৩ অর্থবছরের প্রথম বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। প্রথম বাজেট পেশ করা হয় ১৯৭২ সালের ৩০ জুন।

১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে ১৬ ডিসেম্বরর দেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর দেশে ১০ জন অর্থমন্ত্রী ৪৮টি বাজেট দিয়েছেন, এবার জাতি ৪৯তম বাজেট পেতে যাচ্ছে।

১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে প্রথমটিসহ মোট তিনটি বাজেট ঘোষণা করেন। এরমধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক সরকার এবং তাদের ছত্রছায়ায় বেশ কয়েকটি সরকার দেশ শাসন করেছে। এ সময় দেশে জাতীয় সংসদ সচল ছিল না। সামরিক সরকারগুলো অধ্যাদেশ আকারে বাজেট পেশ করে।

সরকারি তথ্য থেকে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাতের পর ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থবছর ড. আজিজুর রহমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান দুটি এবং তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আরো একটি বাজেট ঘোষণা করেন। ড. এম এন হুদা একবার, এরপর সাইফুর রহমান দুই বার (১৯৮০-১৯৮১ ও ১৯৮১-১৯৮২ অর্থবছর) বাজেট ঘোষণা করেন।

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ১৯৮২ সালে আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২-১৯৮৩ ও ১৯৮৩-১৯৮৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৮৪-১৯৮৫ অর্থবছর থেকে ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থবছর পর্যন্ত পরপর ৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন এম. সায়েদুজ্জামান। ১৯৮৮-১৯৮৯ এবং ১৯৯০-১৯৯১ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম দুই বার বাজেট পেশ করেন। এর মাঝে ১৯৮৯-১৯৯০ ড. ওয়াহিদুল হক বাজেট পেশ করেন।

১৯৯১ সালে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন হয়। ওই সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এম. সাইফুর রহমান আবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছর থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচটি বাজেট পেশ করেন।

মাগুরা নির্বাচন কেলেঙ্কারি বিরুদ্ধে গড়ে উঠা আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকারের পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় এবং শাহ এ এম এস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছর থেকে ২০০১-২০০২ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ছয়টি বাজেট পেশ করেন।

২০০১ এর নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার গঠন করে। এম. সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে ২০০০-২০০১ অর্থবছর থেকে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচটি বাজেট পেশ করেন।

বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়ে ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা লাভ করলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান আবু মাল আবদুল মুহিত। তিনি ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত টানা নয়টি বাজেট পেশ করেন। এরপর ২০১৯-২০২০ সালে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের ৪৮তম বাজেট পেশ করেন। এবার তিনি ৪৯তম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।