ফরিদপুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি ও বিদেশী মদসহ গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশিত: 8:41 AM, June 9, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

ছবি:সংগৃত

ফরিদপুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি, দেশি-বিদেশী মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদসহ ক্ষমতাসীন দলের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফরিদপুর সদরের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী বরকত ইবনে সালাম ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল উল্লেখযোগ্য । মূলতঃ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনার সুত্রতায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশি সূত্রে জানা গেছে। সেসময় তাদের কাছ থেকে দুটি শর্টগান, ৫টি বিদেশী পিস্তলসহ ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৮১ রাউন্ড গুলি, বিদেশী মদ, ৩ হাজার ইউএস ডলার ও ৯৮ হাজার ভারতীয় মুদ্রা, বাংলাদেশী ২৯ লক্ষ টাকা, ৬০ হাজার কেজি চাউল ও পাঁচটি পাসপোর্ট জব্দ করা করেছে পুলিশ।

গত রোববার রাত ১১টার দিকে তাদের আটক করার পর সোমবার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান জানান, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের অন্যান্যরা হলেন, রেজাউল করিম বিপুল, স্থানীয় আওয়ামী নেত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বন্যা মন্ডল, স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা এনামুল ইসলাম জনি, অমিয় সরকার, বর্ধিত ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চক্রবর্তী, সাবেক ৬ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর মাহফুজুর রহমান মামুন ও জাহিদ খান।

সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার খবরে আনন্দ মিছিল ও বিক্ষোভ বের করে জেলা আওয়ামী লীগের একাংশ। ফরিদপুরে প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ বোস।

সেসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মনিরুল হাসান মিঠু, কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খলিফা কামাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামচুল আলম চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলা হয়। এ ঘটনায় তার পরিবার থেকে গত ১৮ মে একটি মামলা করা হয় থানায়। সেই মামলায় গোয়েন্দ তদন্তে তাদের নাম আসে। এর পরই তাদেরকে আটক করা হলো।