পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মেলামেশা দেখে ফেলায় শিশু খুন

প্রকাশিত: 9:44 PM, June 8, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে গোপন মেলামেশা দেখে ফেলায় আপন চাচী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের হাতে প্রাণ হারিয়েছে ৩ বছরের বয়সী শিশু সাহেল আহমদ সোহেল।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৭ জুন) সকালে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা গ্রামে।

নিহত শিশু সাহেল আহমদ সাহেল খছরু মিয়ার ছেলে।

এই ঘটনায় পুলিশ ঘাতক চাচী সুরমা বেগম (৩৮) ও তার পরকীয়া প্রেমিক নাহিদুল ইসলাম (২৬) কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

সুরমা বেগম খছরু মিয়ার সহোদর ভাই রুনু মিয়ার স্ত্রী এবং তার পরকীয়া প্রেমিক নাহিদুল ইসলাম উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের মধুরচক এলাকার কামাল মিয়ার ছেলে হলেও সে এই গ্রামে তার মামার বাড়িতে থাকতো।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশু সাহেলকে খুনের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তারা স্বীকারোক্তিতে জানায়, ‘রবিবার সকাল ৬টার দিকে ভিকটিম সাহেল ও তার ভাই আরিফ আম কুড়ানোর জন্য চাচী সুরমা বেগমের বসতঘরের সামনে যায়। আম কুড়ানো শেষে সে চাচীর বসতঘরের ভিতরে প্রবেশ করলে নাহিদুল ও সুরমা বেগমের অনৈতিক মেলামেশা দেখে চিৎকার শুরু করে। তখন নাহিদুলের নির্দেশে চাচী সুরমা বেগম গাছের ডাল দিয়ে ওই শিশুর মাথায় আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন চাচী ও তার প্রেমিক ওই শিশুর নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে গোসলখানায় থাকা একটি প্লাস্টিকের পানির ড্রামে ঢুকিয়ে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখে।’

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর সারাদিন সাহেলকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মসজিদের মাইকেও তার খোঁজে মাইকিং করা হয়। এ সময় চাচী সুরমা বেগম তার বসতঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখাসহ রহস্যজনক আচরণ করতে থাকেন। এতে সায়েলের বাবাসহ এলাকার লোকজনের সন্দেহ হলে তারা চাচীর ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে সুরমা বেগমের গোসলখানায় রাখা পানির ড্রামের ভিতর কম্বল দিয়ে মোড়ানো শিশু সাহেলের মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহত সাহেলের বাবা খসরু মিয়া বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মামলা দায়েরের পর আমরা ঘটনাস্থল থেকে আটক নাহিদুল ইসলাম ও সুরমা বেগমকে গ্রেপ্তার করি। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।