নিউইয়র্কে করোনার চাপ সইতে না পেরে চিকিৎসকের আত্নহত্যা

প্রকাশিত: 6:08 PM, April 28, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

আন্তজার্তিক ডেস্কক: করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এর বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে লড়ে যাওয়া মার্কিন চিকিৎসক ডা. লোরনা ব্রিন আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান অ্যালেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মৃত্যু এবং ভোগান্তির সাক্ষী হয়ে মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

দেশটির পুলিশ বলছেন, নিজের শরীরে করা জখমের কারণে রবিবার (২৬ এপ্রিল) তার মৃত্যু হয়।

৪৯ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের বাবা ডা. ফিলিপ ব্রিন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, দায়িত্ব পালনের চাপ থেকে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তার মেয়ে।

ডা. ফিলিপ ব্রিন জানিয়েছেন, তার মেয়ের কোন মানসিক অসুস্থতা ছিল না। লোরনা ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে মারা গেছেন, সেখানে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

দায়িত্ব পালনকালে লোরনা ব্রিন নিজেও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়েন এবং সুস্থ হবার দেড় সপ্তাহ পর তিনি আবার কাজে ফেরেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা।

এরপর তার পরিবার নিজেদের উদ্বেগ জানানোর আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লোরনাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

শেষবার যখন মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়, তখন মেয়েকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে, এবং তিনি বাবাকে বলছিলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষেরা কিভাবে মারা যাচ্ছেন সেখানে, কখনো কখনো অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর আগেই।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ২০০-শয্যার নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান অ্যালেন হাসপাতালটিতে গত কয়েকদিনে ডজনখানেক মানুষ মারা গেছেন।

জরুরি বিভাগে কাজ করার কারণে তার মেয়ে একেবারে ফ্রন্টলাইনে কাজ করতেন বলে লোরনাকে বেশ মানসিক ধকল সহ্য করতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার মানুষ মারা গেছেন, এর মধ্যে সাড়ে ১৭ হাজারই নিউইয়র্কের বাসিন্দা। সুত্র: বিবিসিবাংলা