গাজীপুরে করোনা ছড়ানোর কারণ জানালেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার

প্রকাশিত: 5:37 PM, April 20, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে জেলার কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরই অংশ হিসেবে সোমবার করোনার সার্বিক বিষয় নিয়ে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কথা বলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার। সেখানে শিল্পাঞ্চল খ্যাত গাজীপুরে করোনা ছড়ানোর কারণ জানান তিনি।

ভিডিওতে গার্মেন্টস মালিকরা করোনায় সুরক্ষায় সামগ্রী তৈরির নামে অন্য কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন কিভাবে এই জেলায় করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গাজীপুরের এসপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জেলাটা ভালো ছিল। অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানার সমন্বয়ের অভাবে আমাদের গাজীপুর জেলা আজ করোনা আক্রান্ত।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ‘বিজেএমইএ‘র সভাপতি রুবানা হক ২৫ এপ্রিলের পর চিঠি দিয়ে কিছু কারখানা খোলার কথা জানিয়েছেন এবং শ্রমিক পরিবহনে বাস চেয়েছেন।’

পরে পুলিশ সুপার বলেন, গাজীপুরে অনেক পোশাক শিল্প কারখানায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) বানানোর কথা বলে অন্য পণ্য বানানো হচ্ছে। শ্রমিকদের ডেকে এনে কাজ করালেও তাদেরকে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। আগামীতে পোশাক কারখানা চালু করতে আরও শ্রমিকদের ডেকে আনা হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদান করতে হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শামছুন্নাহার বলেন, আমাদের জেলাটা ভালো ছিল। অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানার সমন্বয়ের অভাবে আমাদের গাজীপুর জেলা আজ করোনা আক্রান্ত। যখন গার্মেন্টস খুলে দিলো এবং সর্বত্র থেকে শ্রমিক আসতে শুরু করল এবং নারায়ণগঞ্জের বর্ডার কালিগঞ্জ এবং কাপাসিয়া ওই দিকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলো। ওই এলাকাতেই প্রথম একজন শনাক্ত করি। গাজীপুরে লকডাউন কার্যকর করার প্রধান সমস্যা এখন গার্মেন্টস কারখানা। এখানে অনেক মালিক বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা বলে দিচ্ছেন না। আবার অনেকেই পিপিই ও মাস্ক বানানোর নামে কারখানা খুলে অন্য কাজ করাচ্ছেন।

পুলিশ ‍সুপারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। আমি পরবর্তীতে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বসব।

কনফারেন্সে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পর গাজীপুর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন করে শ্রমিক আনা ঠিক হবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শ্রমিকদের থাকা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে নির্দেশনা দেন।