গাজীপুরে করোনা সংক্রমন ঠেকাতে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে চেকপোস্ট

প্রকাশিত: 8:34 PM, April 6, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ঝুকি নিয়েই গাজীপুরের পৌণে তিন শতাধিক মিল কারখানা সোমবার খোলা ছিল। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কিছু সংখ্যক লোকজন ঘর থেকে রাস্তায় বের হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুকি এড়াতে জেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের ১৪টি পয়েন্টে সোমবার বসানো হয়েছে চেক পোস্ট। সড়কগুলোতে গণপরিবণ চলাচল না করলেও পণ্যবাহী কভার্ডভ্যান ও ট্রাক চলাচল করেছে। তবে এদিন নানা অজুহাতে কিছু সংখ্যক প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ, মোটরসাইকেল, অটো রিক্সা ও রিক্সাকে চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে জনসমাগম ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন সড়ক এবং বাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান সমূহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

এলাকাবাসী, শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পোশাক কারখানা সমূহের ছুটি দ্বিতীয় দফায় এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ছুটি ঘোষণার বাধ্যবাধকতা না থাকায় করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেও প্রথম থেকেই গাজীপুরের প্রায় তিনশ’ মিল কারখানা তাদের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব কারখানায় কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করছে। এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের সব নিয়ম পালিত হচ্ছে না। এদিকে প্রথম দফার ঘোষণা অনুযায়ী ১০দিন ছুটি কাটিয়ে রবিবার কাজে যোগ দিতে লাখ লাখ শ্রমিক দুর দুরান্ত হতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গাজীপুরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় এক সপ্তাহ ছুটি বৃদ্ধি করায় ওইসব শ্রমিকদের অধিকাংশই আবারো গ্রামের বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। পথে তারা বিভিন্নস্থনে জড়ো হয়ে অপেক্ষার পর গাঁদাগাঁদি হয়ে গাড়িতে চড়েছে। এতে পুরোপুরি নিয়ম কানুন না মেনে বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম ও তাদের চলাচল এবং আসা-যাওয়ার কারণে করোনা সংক্রমণের আতংক গাজীপুর বাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ইন্টিলিজেন্স শাখার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ ইসলাম হোসেন জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানা ছুটি ঘোষণা করে বন্ধ রাখা হয়। তবে সোমবার পর্যন্ত জেলার নলজানী এলাকার (জিএমপি হেডকোয়ার্টারের সামনে) কোজিমা গার্মেন্টস, দক্ষিণ সালনার মোল্লাপাড়া এলাকার টিএমএস ফ্যাশন, ডেগেরচালা এলাকার এমাজিন ফ্যাশন, শ্রীপুরের বহেরারচালা এলাকার নান্তাবুর গ্রুপের তাকওয়া গার্মেন্টস, বড়বাড়ি এলাকার পাক ষ্টার বাংলাদেশ লিমিটেড সহ ২৭৭টি কারখানার উৎপাদন অব্যহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে তাদের এসব কারখানা খোলা রেখেছেন।

জিএমপি’র ট্রাফিক পুলিশের (দক্ষিণ) সহকারি কমিশনার পীযূষ কুমার দে জানান, গাজীপুরের সড়ক-মহাসড়কে পণ্যবাহী কভার্ডভ্যান, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকের গাড়ি ছাড়াও দুই-একটি অটোরিকশা ছাড়া যাত্রীবাহী কোন যানবাহন চলছে না। চলতে গেলে তা আটকে দেয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। তারপরও কিছু মানুষ ঘর ছেড়ে পথে চলছে। আসলে করোনা সংক্রমনের জন্য মানুষের মাঝে যতটুকু সচেতনতা থাকা দরকার তা নেই। এখনও এক শ্রেণির মানুষ ও যানবাহন শুন্য মহাসড়ক খালি পেয়ে ঘুরতে বেরোয়। আবার অনেকে পিক-আপে চড়ে দূর-দূরান্তে যাওয়ার চেষ্টা করে। সকালে এরকম কিছু যানবাহনের চালককে সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে এবং কয়েকটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।