পরীমনির বিয়ের দেনমোহর ৩ টাকা! যা বললেন নায়িকা

প্রকাশিত: 3:51 PM, March 21, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

গোপনেই বিয়ে করে ফেললেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। পাত্র সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান রনি। ১০ মার্চ রাতে রাজধানী রাজারবাগ এলাকায় তাদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে পরীমনিকে বিয়ে করেছেন রনি।

মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর বিয়ের একটি অন্যতম শর্ত। দেনমোহর স্বামী কতৃর্ক স্ত্রীকে পরিশোধযোগ্য একটি আইনগত দায়।

দেনমোহর স্বামীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নির্ধারণ করতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান ও স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দেনমোহর এত অধিক হওয়া উচিত নয়, যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়; আবার এত কম হওয়া উচিত নয়, যা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে না।

তবে নামমাত্র টাকা দেনমোহরে কেন বিয়ে করলেন সেই প্রশ্নের জবাব অবশ্য পরীমনি নিজেই দিয়েছেন।

‘জানেন, আমরা ৩ টাকায় বিয়ে করেছি। কি, কিউট না? আমাদের বিয়ের দেনমোহর ৩ টাকা’-এভাবেই নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিয়ের দেনমোহরের কথা নিজেই জানিয়েছেন পরীমনি। তিনি বলেন, অনেক হিসেবনিকেশ করে তো জীবনের পরিকল্পনা করাই যায়। কিন্তু জীবন চলে তার নিজস্ব পথে। জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে সবই আল্লাহর হাতে—এটা আমি খুবই মানি। আমার কাছে মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাসটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটার ওপর নির্ভর করে মানুষ তার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

পরীমনি বলেন, মানুষ যখন কাউকে আই লাভ ইউ বলে, তোমাকে আমি চাই— এটা কিন্তু তাকে ছাড়ার জন্য নিশ্চয় বলা হয় না। কিন্তু এখন বিয়ের শুরুতেই বলে দেওয়া হয়, দেনমোহর কতো হবে? ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে এগুলো আবার দিতে হবে। এগুলো কিন্তু একটা মানসিক চাপ হিসেবে মাথায় ঢুকে যায়। ছাড়াছাড়ি নিয়ে চিন্তার চেয়ে আমার কাছে বন্ধনটা খুব জরুরি।

তিনি বলেন, জীবনের অনেক কিছু হিসেবনিকেশ করে হয় কিন্তু বিয়ের মতো বড় বিষয়ে এগুলো চলে না। আমি খুবই খুশি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি একটু পাগল আছি তো, ও যেন আমাকে ঠিকঠাক বোঝে— সেই দোয়া সবার কাছে চাইছি।

কামরুজ্জামান রনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সদস্য ও নির্দেশক। এছাড়া তিনি অভিনেত্রী ও নির্মাতা হৃদি হকের ‘১৯৭১: সেই সব দিন’ ছবির সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। ওই ছবিতে অভিনয় করছেন পরীমনি।

সেখানে কাজ করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয় পরী-রনির। একপর্যায়ে রনিই বিয়ের প্রস্তাব দেন পরীকে। মনে মনে রনির প্রতি দুর্বল পরী সেই প্রস্তাব এড়াতে পারেননি।

বিয়ে নিয়ে পরীমনি বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে ছবির গল্প শোনানোর জন্য হৃদি আপুসহ রনি এসেছিল আমাদের বাসায়। তখন আমি তাকে খেয়ালই করিনি। শুটিংয়ে গিয়ে কোথায় থাকব কীভাবে যাব, সেসব নিয়ে তার সঙ্গে প্রথম আলাপ শুরু হয়। এভাবেই একসময় আমাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে।