পরিস্থিতি সহ্যের বাইরে চলে যায় তাই তাকে তালাক দিতে বাধ্য হই: শাবনূর

প্রকাশিত: 10:52 AM, March 13, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

বিনোদন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এসব তথ্য জানান এক সময়ের আলোচিত এই নায়িকা।

তিনি বলেন, সবসময় মিথ্যা কথা বলে বেড়াতো অনীক। বাসায় এসে ফোন বন্ধ করে রাখতো। আমি যখন বুঝতে পারলাম সে একজন প্রতারক। তাকে ভালো হতে বলা হলেও সে গায়ে মাখত না। বরং তার কাজ সে করেই চলতো। আমি যখন জানতে পারলাম সে একজন মহিলাকে নিয়ে দেশের বাইরে ঘুরে বেড়ায় তখন আর মেনে নিতে পারছিলাম না। আমি তার পরিবারকে বলার পরও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। উল্টো তার মা বলতেন তার ছেলে ব্যবসায়িক কারণে বাইরে যান। অনীক এক মহিলাকে নিয়ে যে বছরের পর বছর বাইরে সময় কাটান তার পরিবারও মানতে নারাজ। আর অনীক তো দূরের কথা। আজ আমি মুখ খুলতে বাধ্য হলাম।

শাবনুর আরো বলেন, অনীকের নতুন পাসপোর্টে স্ত্রী হিসেবে নাম রয়েছে ‘আয়েশা আক্তার’ নামের এক মহিলার। বিয়ের পর থেকে তার নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আমার ওপর তার অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে জানাতে চাইনি কখনো। একজন বাঙ্গালী নারী কখনো চায় না তার সংসার ভাঙ্গুক। আমি অনেক চেষ্টা করেছি ছেলের কথা ভেবে সংসারটি টিকিয়ে রাখতে। পারলাম না। আমি গতবার দেশে এসে অনেকদিন ছিলাম। আপনারা জেনে অবাক হবেন এক বছরে একটি বারের জন্যও আমাকে দূরে থাক ছেলেকেও দেখতে আসেনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি সহ্যের বাইরে চলে যায় তখন তাকে তালাক দিতে বাধ্য হই। এ বিষয়টিও মিডিয়া, চলচ্চিত্র বা অন্য কাউকে যানাইনি। আমি চাইনি কেউ জানুক। আমার উকিল বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। তবে আমার আইনজীবীকেও বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলাম। ডির্ভোসের বিষয়টি জানাজানি হবার পরও মিডিয়া বা অন্য কারও কাছে অনীকের অন্যায় অপরাধের চিত্র তুলে ধরিনি। শুধু বলেছি আমাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় তাকে তালাক দিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু অনীকই শেষ পর্যন্ত আমাকে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে। সে মিডিয়ার কাছে বলেছে আমি নাকি আগে এক চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছি। আরেকজনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাকে নিয়ে আমি মালয়েশিয়ায় গিয়েছি। আমি যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে থাকতাম বা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকত তাহলে তাকে বিয়ে করলাম কেন?

তিনি বলেন, আজ আমার বিরুদ্ধে অনীক যা বলছে মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি যা প্রকাশ করলাম তা থেকেই প্রমান হবে কে সত্য আর কে মিথ্যা। পারলে আমার বিরুদ্ধে প্রমান দিক। অনীকের এসব অন্যায় কাজের পেছনে ছিল তার মা। আমার কাছ থেকে ফ্ল্যাট-বাড়ি-গাড়ি না পেয়ে তার মায়ের উৎসাহ ও প্ররোচনায় সে আয়েশা আক্তার নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। সেই মহিলা ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্টের কাজ করে। এ কাজে বিদেশে যাওয়া-আসা আছে এই মহিলার। কিছুদিন আগে সে অনীককে নিয়েও বিদেশে গিয়েছে। আজ পাসপোর্টের একটি কাগজ প্রকাশ করলাম। এরপরও যদি সে মাফ না চায় তাহলে সে নতুন বউকে নিয়ে দেশ-বিদেশ যে ঘুরে বেড়িয়েছে সেসব ছবি আছে সব ফাঁস করে দেব।