করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার এপ্রিলে বাজারে আসছে

প্রকাশিত: 3:53 PM, February 27, 2020

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার আরো পাঁচ দেশে, বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৮১ হাজারের কাছাকাছি। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ইতোমধ্যে মৃত্যু ঘটিয়েছে ২ হাজার ৭৬৩ জনের, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৭১৫ জনই মারা গেছেন চীনে।

ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে অন্যান্য দেশেও চীনের মতোই মৃত্যুহার দেখতে হবে বলে মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। এদিকে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি মডার্না থেরাপেটিকস। আগামী এপ্রিলে ভ্যাক্সিনটি বাজারে ছাড়া হবে।

চীনের পর এশিয়ায় এ ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ১ হাজার ১০০ বেশি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সেনা সদস্যদের মধ্যে। এদিকে ইউরোপে ইতালি হয়ে উঠেছে নভেল করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কেন্দ্র। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৩২৫ জন মানুষ।

ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রথমবারের মতো নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের সবাই আক্রান্ত হয়েছে ইতালি থেকে। গত কয়েক দিনে এ ভাইরাস যে গতিতে ছড়িয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রেও এ রোগের ব্যাপক বিস্তার অবশ্যম্ভাবী বলেই মনে করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা।

নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কোভিড-১৯। গত ডিসেম্বরের শেষে মধ্য চীনের উহান থেকে ছড়াতে শুরু করা এ রোগ ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে ৩৯টি দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে তারা এখনই ‘প্যানডেমিক’ তকমা দিচ্ছে না। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে সেদিকে না যায়, সেজন্য সব দেশকেই প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে হবে। অব্যাহতভাবে বিশে^র বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এ পরিপ্রেক্ষিতে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোর মেয়র লন্ডন ব্রিড শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, সানফ্রান্সিসকোর মানুষদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য জরুরি প্রয়োজনে এ পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দেশটির মূল ভূখণ্ড ৪০৬ জনের শরীরে নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৫০৮ জন। সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৬৪ জনে। আর বিশ্বে এ সংখ্যা ৮০ হাজার ৯৭০ জনের দাঁড়িয়েছে।

চীনের মূল ভূখণ্ডে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭১৫ জনে। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে গত মঙ্গলবার আরো ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে চীনের বাইরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮ জনে। তাদের মধ্যে ইরানে ১৫ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ জন, ইতালিতে ১১ জন, জাপানে ৫ জন, হংকংয়ে ২ জন এবং ফিলিপিন্স, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। ইরানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯০ জনে। দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং একজন এমপিও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৬ জনে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দায়েগু ও চেওংডোকের সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের মধ্যেই এতদিন সংক্রমণের ঘটনা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন অন্যান্য অঞ্চলেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যেও। অন্তত ১৮ জন সেনা সদস্য সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন মার্কিন সৈন্যও রয়েছেন।

বাজারে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি মডার্না থেরাপেটিকস করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক বাজারে আনতে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনা গবেষকরা নতুন করোনা ভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্স প্রকাশ করেন। তার ৪২ দিন পর কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয়।

এটি তৈরি করে মানুষের ওপর পরীক্ষা করার জন্য এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজসে (এনআইএআইডি) পাঠানো হচ্ছে। সেখানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) বিজ্ঞানীরা এটি পরীক্ষা করছেন। জাপানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা যাত্রীবাহী জাহাজ ডায়মন্ড প্রিন্সেসের কোভিড-১৯ আক্রান্ত এক যাত্রী স্বেচ্ছায় নিজের ওপর এ ভ্যাক্সিন পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হয়েছেন। এ রোগে আক্রান্ত আরো অনেকেই এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

কোভিড-১৯ প্রতিকারে মডার্নার ভ্যাক্সিন খুব অল্প সময়ে তৈরি করা হয়েছে। কারণ নতুন এক জেনেটিক মেথডে এটি তৈরি হয়েছে যেখানে অনেক ভাইরাস নয়, প্রয়োজন হয় এম-আরএনএ। এটি প্রোটিন তৈরি করে, যা শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।