করোনাভাইরাস মৃত্যুর মিছিলে আরও ৬৯ জন, মোট ৬৩০ ছাড়িয়েছে

প্রকাশিত: 11:21 AM, February 7, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চীনে আরও ৬৯ জনে মৃত্যু হয়েছে। এতেকরে শুধু হুবেই প্রদেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৮ জনে। আর এ মোট সংখ্যা সংখ্যা ৬৩০ ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৩০ হাজার। এরই মধ্যে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা এবং চিকিৎসা উপকরণের মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্বের ২৮টিও বেশি দেশে এ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।

হুবেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার চীনে নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও প্রায় আড়াই হাজার জন। এখন পর্যন্ত চীনসহ সারাবিশ্বে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজারের বেশি। বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাদের মধ্যে ৮৪১ জনের অবস্থা গুরুতর।

উহান নগরীর এক চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত হাজার হাজার রোগীর চাপ থাকায় এখানে হাসপাতালের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। এ নগরীতে করোনাভাইরাস চিকিৎসার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণেরও সংকট রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তারা নগরীর বিভিন্ন হোটেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা কেন্দ্র খোলার কথা বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এ ভাইরাস বিশ্ব স্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডব্লিউএইচও নতুন এ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার অর্থ সাহায্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অধিকাংশ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনাই ঘটেছে হুবেই প্রদেশে, যে প্রদেশের উহান শহরকে এ ভাইরাসের ‘উৎসস্থল’ বলা হচ্ছে।

ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীনের বেশ কয়েকটি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার লোককে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে।

চীনের মূল ভূ-খণ্ডের বাইরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে অন্তত দুইজন। মঙ্গলবার হংকংয়ে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। তিনি কিছুদিন আগেই করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ফিরেছিলেন। এর আগে, গত সপ্তাহে ফিলিপাইনে মারা যান উহানফেরত আরও একজন।

এদিকে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকরী ওষুধ নিয়ে চীনা গবেষকদের দাবি উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এর টিকা আবিষ্কার নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমের দাবিও নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচও বলছে, এখন পর্যন্ত এর কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। ডব্লিউএইচও এর মুখপাত্র তারিক জাসারেভিক বলেন, ২০১৯-এনসিওভি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এর কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই চীন থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়া এ ভাইরাস ঠেকাতে চীন-ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

বিশ্বের অনেক দেশই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন থেকে আগতদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো চীনগামী ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও তৈরি না হওয়ায় আপাতত নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হল, যারা আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

আর হাসপাতালে ভর্তি হলে রোগীর মধ্যে যে উপসর্গগুলো আছে, সেগুলো সারাতেই মূলত চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই ভাইরাসকে প্রতিহত করতে চেষ্টা চালাতে থাকে।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ কী?
এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর ও শুষ্ক কাশি হতে পারে। এর সপ্তাহখানেক পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। তবে এসব লক্ষণ মূলত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই জানা গেছে।

সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একদম প্রাথমিক লক্ষণ কী বা আদৌ তা বোঝা যায় কি-না তা এখনও অজানা। তবে নতুন এই করোনাভাইরাস যথেষ্ট বিপজ্জনক। সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের লক্ষণ থেকে এটি মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্তও নিয়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস।