রেললাইনে জন্ম নেয়া নবজাতককে কুকুরের মুখ থেকে বাঁচালো পুলিশ

প্রকাশিত: 10:25 AM, February 1, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের দেওয়ান হাট রেললাইনের পাশে জন্ম নেয়া এক নবজাতককে কুকুরের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণে বাঁচালো ডবলমুরিং থানা পুলিশ। জন্মদাত্রী মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় সদ্যজাত শিশুটি কুকুরের পেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমনকি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মূমুর্ষূ অবস্থায় রক্ত দিয়ে সুস্থ করেছে আরেক পুলিশ কনস্টেবল। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে দেওয়ানহাট রেললাইনের কাছে নবজাতকটিকে পাওয়া যায়।  মা’সহ শিশুটিকে উদ্ধার করে এসআই আলাউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে যান।

এসআই আলাউদ্দিন জানান, স্থানীয় এক ছেলে এসে জানায় দেওয়ানহাট রেলওয়ে ডকের পাশে একটা বাচ্চা পড়ে আছে। টহল টিম দ্রুত গিয়ে দেখতে পায়, রেললাইনের পাশে একটা বাচ্চা নিচু স্বরে কান্না করছে। সারা শরীরে রক্তমাখা ছিল। দূরে একটা মহিলা শুয়ে আছে। দেখলাম মানসিক সমস্যা আছে।  বেশ কয়েকটি কুকুর শিশুটির পাশে ঘুরছিল খাবার মনে করে। মা ও শিশুটি চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ৫০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। শিশুটিকে একই হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ভোর ৫টার দিকে শিশুটির জন্ম হয়েছে। শীতের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে থাকায় তার বুকে ঠাণ্ডা লেগেছে। এজন্য তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় মায়ের শরীর খুবই দুর্বল ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে ডবলমুরিং থানার এএসআই মেহেদি তাকে রক্ত দিয়েছেন। এছাড়া ওষুধ-ইনজেকশনসহ আনুষঙ্গিক খরচও ডবলমুরিং থানা দিচ্ছে।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেন জানিয়েছেন, শিশুটি সুস্থ হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে অভিভাবকের ব্যবস্থা করা হবে। এর আগ পর্যন্ত যত সাপোর্ট দরকার, সব পুলিশ দিবে। এসআই আলাউদ্দিন জানান, পুলিশ যখন বাচ্চাটিকে উদ্ধারের জন্য যায়, ৫-৬ টা কুকুর আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। কিছু সময় পেলে হয়তো শিশুটি কুকুরের খাবারে পরিণত হত।