বিদ্যুতের দাম ২৩% বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত: 10:16 AM, November 29, 2019

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারিতে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজারে টিসিবি অডিটরিয়ামে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে পিডিবি এই প্রস্তাব দেয়। তবে প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিইআরসি বলছে, সরবরাহ ব্যয় সমন্বয় করতে ইউনিট প্রতি ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানো যেতে পারে।

শুনানিতে পিডিবির জিএম (বাণিজ্যিক কার্যক্রম) কাউসার আমীর আলী বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাইকারিতে বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয় ছিল ৫ টাকা ৮৩ পয়সা। এখন বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৪ টাকা ৭৭ পয়সা। এর ফলে গত অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৬২৩ মিলিয়ন টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

২০২০ পঞ্জিকা বছরে গড় সরবরাহ ব্যয় হবে ৫ টাকা ৮৮ পয়সা হবে। কিন্তু বর্তমান মূল্য বজায় থাকলে এবছর ঘাটতি হবে ৮৫ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন টাকা। এ ঘাটতি পোষাতে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য এক টাকা ১১ পয়সা বাড়ানো প্রয়োজন। দাম বাড়ানোর কারণ হিসাবে বৈদেশি মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাসের মূল্য ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি, কয়লার ওপর নতুন করে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি ও কোনো কোনো বিতরণ সংস্থা কর্তৃক সময় মতো টাকা পরিশোধ না করাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির পক্ষে বিইআরসির উপপরিচালক (ট্যারিফ) মো. কামরুজ্জামান বলেন, তাদের পর্যালোচনায় পাইকারি মূল্য ৯৩ পয়সা বা ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে। আগামী বছর প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা লোকসানের পূর্বাভাস দিয়ে বিইআরসির দ্বারস্থ হয়েছে পিডিবি।

পিজিসিবি চায়, চার বছর আগে নির্ধারণ করা তাদের সঞ্চালন চার্জ তিন ধাপেই বাড়ানো হোক। প্রথম দিনের শুনানিতে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন ও সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর শুনানি চলছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরে পাইকারি বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ায় সরকার। আর চলতি বছরের ৩০ জুন গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিইআরসি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান, আব্দুল আজিজ, রহমান মুরশেদ ও মাহমুদউল হক ভূইয়া শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। ক্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম, মুঠোফোন গ্রাহক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিজিএমইএর প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বিকেএমইএর সজিব হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ আরও কয়েকজন ভোক্তা প্রতিনিধি দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

বিদ্যুতের গণশুনানিতে আজিজ খানের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
বড়পুকুরিয়ার কয়লা চুরির মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বাংলাদেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর সদস্য আব্দুল আজিজ খান গণশুনানিতে উপস্থিত থাকায় হইচইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাকে নিয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজ খানকে পাশে রেখে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর এই গণশুনানি করায় তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হবে। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন, ঠিক ওই সময়ে কমিশন বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে গণশুনানি করছে। সুতরাং বিষয়টি শুধু আদালতের বিষয় বলে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এরপর সাংবাদিক সেরাজুল ইসলাম বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি গণশুনানিতে অংশ নিতে পারেন? এটি বিইআরসির আইন সমর্থন করে কিনা?’ এমন প্রশ্নের জবাবে কোনও উত্তর দেননি কমিশনের চেয়ারম্যান।

ক্যাবের উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেছেন, চার্জশিটভুক্ত একজন আসামির রায় কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করার সময় থেকে তিনি আর চাকরিরত থাকতে পারেন না। মামলা চলার সময়ে ওই অভিযুক্তকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার চার্জশিটে কমিশনের সদস্য আব্দুল আজিজ খানের নাম থাকার পরও তিনি শুনানিতে অংশ নেন। কমিশনের আইন অনুযায়ী তাদের বিচারিক ক্ষমতাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে এক লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা (যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক সাত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে বিচারক তাদের বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিরও আদেশ দেন। এরপর গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানি শেষে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন দিনাজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আজিজ আহমদ ভুঞা।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশের একদিন পর ২৩ আসামি দিনাজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ৩ জনের জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত। এই সময় সাবেক ৬ জন এমডিসহ বাকি ২০ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন হচ্ছেন আব্দুল আজিজ খান।