হলি আর্টিজানে হামলা: ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: 1:25 PM, November 27, 2019

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার রায়ে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। জঙ্গি হামলার তিন বছর চার মাস ২৬ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালত বুধবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।

এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তাদেরকে কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে দুপুর ১২টার দিকে আসামিদের আদালতে তোলা হয়।

আদালতে তোলার সময় আসামি আসলাম হোসেন সরদার ভি চিহ্ন দেখান। তাদের মধ্যে অধিকাংশের মুখেই হাসি ছিল। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। আসামিদের উপস্থিতিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত পাড়াসহ রাজধানী ও সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থপনায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্ব পালনে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

ভয়াবহ এ জঙ্গি হামলার রায়কে ঘিরে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার আদালত পাড়া পরিদর্শন করেছেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা জানান, প্রয়োজন মনে হলে রায় ঘোষণার পরও নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।

র‌্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো এলাকা নজরদারিতে রেখেছেন।

এছাড়াও পুলিশ-র‌্যাবের সমন্বয়ে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি রোডে পথচারি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আদালতে প্রবেশদ্বারে বসানো হয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। এছাড়াও দেহতল্লাশি করা হচ্ছে।

বুধবার সকাল থেকেই পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।

২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক হুমায়ুন কবির। একই বছর ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এছাড়া বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়।

হলি আর্টিসানে সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত পাঁচ হামলাকারী হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

এছাড়া এ মামলায় আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলেন তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।