নবীন-প্রবীণ যুবকদের নিয়ে ‘স্মার্ট নেতৃত্ব’ আসছে যুবলীগে

প্রকাশিত: 5:33 PM, November 21, 2019

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের দুই শীর্ষ পদে আসছে এক ঝাঁক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ সব শ্রেণিপেশার যুবকদের নিয়ে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ‘স্মার্ট’ ও ‘নির্ভীক’ নেতৃত্ব।

তারা সিদ্ধান্ত নিবেন অনেক দ্রুত। তারা তাদের জ্ঞান আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিবেন তা অনেক বেশি পরিপক্ক হবে। তারা চ্যালেঞ্জকে ভয় পাবেন না।ভবিষ্যতের নেতৃত্বের এমন দূরদর্শীতার কথাই জানালেন যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে যুবলীগের অতীতের সৃষ্টিশীল সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে সক্রিয় করে তুলতে নতুন এই নেতৃত্ব ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমি যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি নিজেও সাত বছর পরে কংগ্রেস করার সুযোগ পেয়েছি। তবে এত দীর্ঘদিন পর কংগ্রেস হলে তরুণদের জন্য সুযোগ কমে যায়। আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনের জন্য একটি গতিশীল, সৎ ও নির্ভীক নেতৃত্ব প্রয়োজন। এসব বিষয় বিবেচনা করেই যুবলীগের নেতৃত্বের বয়স ৫৫ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, এই বয়সসীমার মধ্যেই ত্বরিৎকর্মা নেতৃত্ব খুঁজে পাবে যুবলীগ এবং সেই নেতৃত্বই আগামী দিনে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নেবে।

যুবলীগের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটির নেতারা প্রাধান্য পাবেন নাকি বাইরে থাকা নেতারা নতুন করে দায়িত্ব পাবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে যুবলীগের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আমাদের সবার অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর। যুবলীগে কোন পর্যায়ে কাকে নেতৃত্বে আনলে সাফল্য আসবে, সেটি তিনিই সবচেয়ে ভালো বুঝবেন। আর তাই নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কে জানতে ২৩ নভেম্বর পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে।

নানক বলেন, যিনি আজ ছাত্রলীগ, তিনিই কাল যুবলীগ। এরপর তিনিই আবার আওয়ামী লীগ হবেন। আমরা ছাত্রলীগ করেছি, দীর্ঘ সময় যুবলীগ করেছি, তারপর আজ দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ করছি। ছাত্রলীগের সাবেক একঝাঁক নেতৃত্ব রয়েছে, যাদের রাজনীতিতে স্থান বা পদ-পদবী দেওয়া যায়নি। তারা যুবলীগে আসবেন। এই যুবলীগে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যারিস্টার, প্রকৌশলী— এ ধরনের যুবকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের নেতৃত্ব যুবলীগে রেখেছিলাম। সেই ধরনেরই একটি চিন্তাভাবনা আছে।

নানক আরও বলেন, কমিটিতে শুধু চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদকই নয়, প্রেসিডিয়াম সদস্যরা থাকেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা রয়েছেন। প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সবাইকে সন্নিবেশিত করতে হবে। তাহলেই যুবলীগে একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

যুবলীগ ইমেজ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে কি না, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবলীগ কিন্তু ইমেজ সংকটে পড়েনি। যুবলীগের দুই-চার জন যে কাজটি করছেন, ব্যক্তিগতভাবেই তা করেছেন। নেতৃত্বে কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় কোনো সংগঠন নিতে পারে না। তারপরও যেহেতু ঘটনাগুলো ঘটে গেছে, তাতে যুবলীগের ইমেজ নিয়ে কথা উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, নতুন যে কমিটি দায়িত্ব নেবে, তারা সার্বিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করবে, যুবলীগ একটি সৃষ্টিশীল সংগঠন।

এবার আলোচনায় আছেন শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস (পরশ)। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। তবে তিনি যুবলীগের নেতৃত্বের বিষয়ে আগ্রহী কি না, সেটাও জানা যায়নি। এ ছাড়া যুবলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্য হলেন শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাইম। তারা দু’জন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে। শেখ সেলিমের ছেলে হিসাবে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফাহিমের নামও আলোচনায় আছে।

যুবলীগের বর্তমান কংগ্রেসের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেলাল হোসাইন, আতাউর রহমান (আতা) ও ফারুক হোসেন চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী। অন্যদিকে সংগঠনের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদকদের মধ্যে আলোচনায় আছেন মহিউদ্দিন আহমেদ (মহি) ও সুব্রত পাল। এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্যও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী হিসেবে বিভিন্ন মহলে তদবির ও লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যেও যুবলীগের শীর্ষ পদের জন্য কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এক্ষত্রে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেনও আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়াও সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে ইসহাক আলী খান (পান্না) ও অজয় কর খোকনের নাম আলোচিত হচ্ছে।

যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক নেত্রী। তিনি যে নেতৃত্ব দেবেন, সেটাই আমরা মেনে নেব। এখানে আমাদের চিন্তাভাবনা করার কিছু নেই। সবদিক বিবেচনা করেই তিনি নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন, সেটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

সম্প্রতি চলমান শুদ্ধি অভিযানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে সবচেয়ে বেশি যুবলীগ নেতাদের নাম আলোচনায় উঠে আসে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে স্বাধীনতার সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনির হাতে গড়া সংগঠনটির সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৩ নভেম্বর। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পদ্মাসেতুর আদলে তৈরি মঞ্চ থেকে সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে কংগ্রেসের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সাংগঠনিক নেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত করবেন। রাজপথের ভ্যানগার্ড বলে পরিচিত সংগঠনটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে প্রায় প্রতিটি কংগ্রেসে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের থাকার সময় আন্দোলন-সংগ্রাম বিক্ষোভ-মিছিলে রাজপথ কাঁপিয়েছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে এবারের চিত্র একটু ভিন্ন। বিতর্কিত ক্যাসিনো ঝড়ে ইমেজ সংকটে পড়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব অনেকের বিরুদ্ধে ক্লাব পরিচালনার আড়ালে অবৈধ জুয়া ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। মহানগরের প্রতাপশালী নেতারা কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন। কেউ কেউ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কারও হয়েছেন। অনেকেই রয়েছেন গ্রেফতার আতঙ্কে। এ কারণে এবারের কংগ্রেসে পদপ্রত্যাশী অনেকেই প্রকাশ্যে নয়, চুপিসারে শীর্ষ পদের লড়াইয়ে ব্যতিব্যস্ত সময় পার করছেন।

এর আগে, যুবলীগের সর্বশেষ কংগ্রেস হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হন হারুন-অর-রশিদ। ১৪৯ সদস্যের এই কমিটিতে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর একচ্ছত্র অধিপত্য ছিল। পরে আরও দু’জনকে নিয়োগ দিয়ে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়। এছাড়াও সংগঠনটি ভেতরে অনেকে এসএমএস নেতা হিসাবেও পরিচিত আছেন।