সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বিলে ফেলেছিলেন মা

প্রকাশিত: 8:44 PM, November 2, 2019

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে মো. রাফি নামের আড়াই বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আটকের পর শিশুটির মা শুক্রবার (১ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক তারান্নুম রাহাতের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, গত বুধবার সকালের দিকে বালিয়াদহ বিল থেকে শিশু রাফির লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। রাকিব রূপসদি দক্ষিণ পাড়ার প্রবাসী ফারুক মিয়ার ছেলে।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ রাফির মা ও প্রবাসী ফারুক মিয়ার স্ত্রী সেনোয়ারা বেগমকে আটক করে। সেনোয়ারা বেগম জানায়, তাদের ঘরে মো. ফাহিম (৬) ও মো. রাফি নামে আড়াই বছরের ছেলে সন্তান ছিল। স্বামী ৬ লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে গেছে। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয় রাফি। তার কোনো স্থানে আঘাত পেলে কালসিটে হয়ে যেতো ও কেটে গেলে রক্ত পড়া বন্ধ হতো না। এই রোগের চিকিৎসা ব্যয় বহুল ছিল। চিকিৎসা করাতে গিয়ে স্বামীর বিদেশ যাওয়ার সময় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এই হতাশা থেকে গত বুধবার ভোরে ছেলেকে কোলে করে বাড়ির পাশের বালিয়াদহ বিলে কাছে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে বিলে ফেলে দেই।

এ ব্যাপারে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ধীমান কুমার সাহা জানান, রোগটির নাম হিমোফিলিয়া। ছেলে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে রক্তে ফ্যাক্টর-৮ অথবা ফ্যাক্টর-৯ কম থাকায় এ রোগ দেখা দেয়। আক্রান্ত শিশুকে তাৎক্ষণিক ওষুধ নিতে অথবা শরীরে রক্ত দিতে হয়। ফ্যাক্টর-৮ বা ফ্যাক্টর-৯ কম থাকায় শরীরে রক্ত জমাট বাধা বিঘ্নিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নিহতের দাদা আশ্রাফ জালালী বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলমগীর হোসেন, নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার আলাউদ্দিন চৌধুরী, ডিআইও-১ ইমতিয়াজ আহমেদ।