মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে গাজীপুরের নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: 10:52 AM, November 19, 2021

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে আর প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে গাজীপুরের মানুষ । তা নিয়ে দলীয় নেতা কর্মীসহ মহানগর বাসীর মধ্যে নানা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

আওয়ামীলীগের কার্য নির্বাহী পরিষদের আজকের সভায় (শুক্রবারের) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। মেয়র বিরোধীদের দাবি দলীয় ও মেয়র পদ হারাচ্ছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

আর মেয়র জাহাঙ্গীর সমর্থিতরা বলছেন সুপার এডিট করা মেয়রের কথিত বক্তব্য পূঁজি করে এক শ্রেণীর মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী লোক ও মেয়র বিরোধী পক্ষ যে অপরাজনীতি করছে সফল হবে না। তারা সফল হলে নগরীর চলমান উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। বিগত ৫০ বছরে গাজীপুর নগরীর যে উন্ন্য়ন কেউ করতে পারে নি, মেয়র জাহাঙ্গীর গত তিন বছরে তা করে দেখিয়েছেন।

এছাড়াও বেড়ে যাবে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম। মহানগর আওয়ামীলীগের যে শক্ত ভিত তা ভেঙ্গে পড়বে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চায়ের দোকান থেকে অফিস আদালতের সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনা। বিষয়টি এখন টক অব দ্যা সিটিতে পরিনত হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের ৯৫ ভাগ নেতাকর্মী মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে আছেন। সুবিধাভোগী কতিপয় নেতাকর্মী তাঁর বিরোধীতা করছে। তারা ছাত্রজীবন থেকেই বিরোধীতা করছেন।

মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন বলেন, করোনা মহামারীর সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষকে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর। এছাড়া নগরীর সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সব সময় সহযোগিতা করছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর শিক্ষা বান্ধব, দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তিনি দলে থাকলে লাভবান হবে আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠণ।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক এসএম মোকছেদ আলম বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তার সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে দলের ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত হয়েছে। তিনি মহানগরীর শিল্প কারখানাসহ সবক্ষেত্রে চাঁদাবাজি, মাদকসেবী ও দখলবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার।

মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, তিনি পদে না থাকলে চাঁদাবাজ ও সুবিধাভোগীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। মেয়র জাহাঙ্গীরের ন্যায় নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কারনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অলি গলিসহ সর্বত্র চলছে উন্নয়ন কার্যক্রম। ইতোমধ্যেই প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার সড়কসহ ড্রেনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরীর ইমাম সমিতির সভাপতি মুফতি নূরুল ইসলাম বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর মহানগরীর প্রায় তিন হাজার মসজিদ-মক্তবের ইমাম ও খতিবকে প্রতিমাসে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন। এমন লোকের বিরোধীতা যারা করছেন তারা ভাল কাজ করছেন না। গাজীপুরের অলেম ওলামাদের দোয়া মেয়রের প্রতি রয়েছে।

গাজীপুর কিন্ডার গার্টেন স্কুল এসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুদুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান জানান, গাজীপুর মহানগরীর সকল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের টেক্স মওকুফ করে দিয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর। এছাড়া করোনার সময় এবং গত দুই ঈদে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তিনি। এটা নজিরবিহীন।

মহিলা পরিষদের সভাপতি এবং সিটি ডেভলপমেন্ট কমিউনিটির (সিডিসি) সভানেত্রী রীনা হালিম জানান, গাজীপুর নগীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠির ৩৯ হাজার নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

মহানগর শ্রমিক লীগের আহবায়ক আবদুল মজিদ বিএসসি জানান, মেয়রের কারণে চাঁদাবাজি বন্ধ। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে পাশে থাকেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর।

গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাজাহারুল ইসলাম মাসুম ও সাধারন সম্পাদক শাহ সামসুল হক রিপন জানান, সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পাশে থাকেন মেয়র।

এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আলমগীর বলেন, গাজীপুর সিটিতে পোশাক কারখানার মালিকরা মেয়রের জন্য নিরাপদে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। চাঁদাবাজ, ঝুট সন্ত্রাসীদের থেকে আমাদের কারখানাগুলো নিরাপদ রয়েছে। তিনি না থাকলে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

বিজিএমই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদমা গ্রুপের মালিক মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, নগরীর আড়াই হাজার কারখানায় ২৪ লাখ শ্রমিক কাজ করে। যে কোন সমস্যায় পড়লে আমরা মেয়র জাহাঙ্গীরকে পাশে পাই। সিটি মেয়র ও দলীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে তিনি বহাল থাকলে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক ভালো হবে।

একতা গার্মেন্টস ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় সভাপতি মোঃ কফিল উদ্দিন বলেন, গাজীপুরে শ্রমিকদের যে কোন ন্যায্য দাবির পক্ষে মেয়র সব সময় শ্রমিকদের পাশে থাকেন। ঈদের সময় কোন কারখানা মালিক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দিতে না পারলে মেয়র নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বেতন বোনাসের ব্যবস্থা করেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গাজীপুরে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের জন্য পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা ভালভাবে কাজ করতে পারছে। কারণ কোন কারখানায় চাঁদাবাজি ও ঝুঁট সন্ত্রাস নেই। শ্রমিক বান্ধব হিসেবে তার ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারখানা মালিক জানান, মেয়র বিরোধী মুষ্টিমেয়র একটি পক্ষ বিভিন্ন কলকারখানা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং নগরীতে অস্থির পরিস্থিতি তৈরীতে তৎপর রয়েছে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও গাজীপুর আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন বাবুল বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের প্রচেষ্টায় গাজীপুর বারে আওয়ামী আইনজীবীদের মধ্যে ঐক্য ফিরে এসেছে। গাজীপুরে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব ধরে রাখতে এবং নগর জুড়ে যে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে তার ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কোন বিকল্প নেই।

জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের রুহুল আমীন বলেন, শিক্ষা বৃত্তি ব্যবস্থাসহ আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্র ছাত্রীদের খরচ বহন করে লেখা পড়ায় সহযোগিতা করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

নগরবাসীদের অধিকাংশের দাবী, গাজীপুর মহানগরীকে একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে রাতদিন কাজ করে চলেছেন মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি গত তিন বছরে নগরের রাস্তাঘাটের যে উন্নয়ন করেছেন তা স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত কেউ তা করতে পারেনি। নগরবাসীর ন্যায্য দাবীর পক্ষে সবসময় অবস্থান নিয়েছেন তিনি। নগরের উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল মেয়রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নগরবাসীর দোয়া ও প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষনতায় তা অচিরেই কেটে যাবে।

এদিকে দলের কার্য নির্বাহী পরিষদের সভাকে কেন্দ্র করে মেয়র বিরোধীরা আগের মতো প্রকাশ্যে তৎপর না থাকলেও ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মেয়র বিরোধী নানা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। যদিও তাদের সংখ্যা অতি নগন্য।

তারা বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ তৈরী করে সামাজিক প্রচার মাধ্যমে ছড়িয়ে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। শুক্রবারের সভায় মেয়রের শাস্তি নিশ্চিত ধরে নিয়ে অনেকে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাদের দাবি মেয়র পদ ও দলীয় পদ দুটোই হারাচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম।

অপর দিকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান বলেন, মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের আজ (শুক্রবার) আলোচনা হবে। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক এবং গ্রীণ ও ক্লিন সিটিতে পরিনত করতে গত তিন বছর ধরে আমি কাজ করে চলেছি।

ইতোমধ্যেই ২৬০০ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করেছি এবং ৩৮০০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। গত তিন বছরে প্রায় ৯০০ কি মি সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছি।

এ ছাড়াও নগরীর অধিকাংশ এলাকায় ড্রেন, নলকূপ, পাইপ লাইন, সোলার স্ট্রিট লাইন, ফুটপাত ও ব্রীজ নির্মান এবং খাল খনন ও পুনঃ খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরো কাজ চলমান রয়েছে।

স্টেডিয়াম, পার্ক, স্কুল, কলেজ, পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে গাজীপুর সিটি হবে বাসযোগ্য একটি আধুনিক এবং গ্রীণ ও ক্লিন সিটি। আমার বাকী কাজ সম্পন্নের জন্য আমি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।