যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আজহারের মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রকাশিত: 9:39 AM, October 31, 2019

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে (আজহার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি এক নম্বরে রাখাছিল।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে আজ সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের তল্লাশির মধ্য দিয়ে আদালতে প্রবেশ করতে হয়। কোনো সাধারণ মানুষকে সকালে আদালতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত ১০ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, এ বিষয়ে রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমান রাখেন আপিল বিভাগ।

আদালতে জামায়াত নেতা আজহারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শুনানিতে আজহারের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিতে আদালতের কাছে তাঁদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। অপরদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল জামায়াত নেতা আজহারের অপরাধ বিবেচনা করে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আর্জি জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, ‘১৯৭০ সালে রংপুর শহরে এ টি এম আজহারুল ইসলাম ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। এমনকি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। এতে ১৯৭১ সালে এ টি এম আজহারের অবস্থান সবার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ওই সময় ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে যেহেতু মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে; সে কারণে এ টি এম আজহারও একই দলের সদস্য হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, এটা প্রমাণিত।’

এ ছাড়া ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সময় এ টি এম আজহারকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি সরাসরি দেখেছেন। এসব যুক্তি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতের কাছে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে এ টি এম আজহারের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়, ‘ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর জেরায় স্বীকার করেছেন যে, একাত্তর সালের ধর্ষণ, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনায় এ টি এম আজহার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। আর যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেখানে দুই নম্বর অভিযোগের দুজন সাক্ষীর মধ্যে একজন বলেছেন, ৬ কিলোমিটার দূরে থেকে দেখেছেন আর অন্যজন বলেছেন, ৩ কিলোমিটার দূরে থেকে ঘটনা দেখেছেন।’

যুক্তি উপস্থাপনকালে এ টি এম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ঘটনার প্রধান নায়ক ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে বাদ দিয়ে সহযোগী হিসেবে বানোয়াট সাক্ষ্য দিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আসামি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব সাক্ষী দেওয়া হয়েছে, তা বানোয়াট। সেফ হোমে রেখে এসব সাক্ষী তৈরি করা হয়েছে।’

১৮ জুন এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীনের পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিল।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তাঁর আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ দুই হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করেন।