কৃষিপণ্যের মূল্য ঠিক করতে কমিশন গঠনের দাবি

প্রকাশিত: 8:02 PM, January 10, 2021

জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক: মৌসুমভিত্তিক চাল ডালসহ নিত্যপণ্যায়ের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

রবিবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘চালের দাম বাড়ছে কেন? কার লাভ, কার ক্ষতি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। এতে নওগাঁ, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন গবেষক, মিল মালিক, চাল রফতানিকারক, কৃষিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও অংশ নেন। এতে ধান-চালের দর বৃদ্ধির জন্য সরকারের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করেন তারা।

ভারতে এই পদ্ধতি খুব কাজে দিয়েছে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক বা গবেষকের মতামতের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত উৎপাদকের সঙ্গে এবং বাজারসংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন গঠন প্রয়োজন। একটি এগ্রিকালচারাল প্রাইস কমিশন গঠন করা দরকার, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্ষেপণ দিতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যমেয়াদী, স্বল্পমেয়াদী দাম নির্ধারণ করবে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চালের দামের ক্ষেত্রে নজরদারির প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের মূল অস্ত্র মজুদ বৃদ্ধি এবং পাশাপাশি সংগ্রহ অভিযান জোরদারে সফলতা পায়নি। দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে সংকেত দিতে হলে উৎপাদনের সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রাক্কলনে নীতি-নির্ধারকদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, কৃষির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু কৃষকের তো সেভাবে উন্নতি হলো না। সরকারের মজুদ কম। বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো মজুদ নেই। সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা কম, লটারির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু অনেকেই বঞ্চিত হন। এছাড়া সঠিক সময়ে চাল আমদানি হয়নি। এই সিদ্ধান্ত আরও আগে নেয়া যেতো।

কৃষি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, দেশবিরোধী পাকিস্তানের দোসররা ধান-চালের দাম নিয়ে খেলা করছে। দর বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও কৃষক কিংবা ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এবার আমনের উৎপাদন কম হয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে আমন উৎপাদনের সঠিক সিদ্ধান্ত আসেনি। একই সঙ্গে সরকার মিলারদের কাছ থেকে ধান-চাল না কিনে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কিনলে কৃষকরা যেমন ন্যায্য দাম পেতেন, তেমনি দর নিয়ন্ত্রণও সহজ হতো। এদিকে সরকার যে চাল কিনছেন তা কৃষকরা অনেক সময় জানেন না। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে সরকারের দুর্বলতা এবং ছোট ছোট অনেক হাসকিং মিল বন্ধ হওয়ায় চালের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন আলোচকরা। অপরদিকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের দেরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিলেও এখন পর্যন্ত চাল আমদানি হয়নি। এসব কারণে বাজারে চালের দাম কিছুতেই কমছে না। এছাড়া চালের বাজারে বড় বড় কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করায় তারা মজুদ করে রেখেছে। ছোট ছোট মিলাররা নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে চালের বাজারে সিন্ডিকেটও রয়েছে। যদিও বোরোর উৎপাদন ঘরে উঠলে চালের দাম ৫০ টাকার মধ্যে নেমে আসবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারি কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইস্টিটিউটের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বক্তব্য রাখেন।