গাজীপুরে ডাকাত সর্দারসহ ৮ ডাকাত আটক, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

প্রকাশিত: 10:35 PM, October 29, 2019

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দল শহীদ-কামাল গ্রুপের দলনেতা শহীদ এবং তার সহযোগী নারীসহ ৮ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-১’র সদস্যরা।

টঙ্গীর চেরাগআলী ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকারসহ ডাকাতির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার র‌্যাব-১’র মোঃ অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সারওয়ার-বিন-কাশেম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আটককৃতরা হলো- পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার গিলাবাদ এলাকার ইসহাক আকন্দের ছেলে ডাকাত সর্দার শহিদ আকন্দ (৪২), পটুয়াখালীর দুমকী থানার চর বয়ড়া এলাকার মৃত চেরাগ আলী হাওলাদারের ছেলে জাকির হোসেন ওরফে কামাল (৩৫), একই জেলার গলাচিপা থানার চর কাজল এলাকার মৃত অলি মাঝির ছেলে শাজাহান (৩৫),

একই থানার হোগলগুনিয়া এলাকার মৃত মতলেব মৃধার ছেলে আল আমিন হোসেন (৩৬), টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার হাগুড়াকুড়ি এলাকার জয়নাল হোসেন মিস্ত্রির ছেলে মাহাবুব মানিক (৩১),

একই থানার আউশনারা এলাকার কামরুল ইসলামের মেয়ে আর্জিনা বেগম (২৩), নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার মুন্সীপাড়া এলাকার আনিসুল ইসলামের ছেলে বাবু ইসলাম ওরফে পিচ্চি বাবু (২৮) ও জামালপুরের মেলান্দহ থানার ভাপকী বড়বাড়ি এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম (২৯)। এরা প্রায় সবাই গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে।

আটক শহীদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক জানান, সোমবার রাতে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ডাকাতির করার উদ্দেশ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীর চেরাগআলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এ গোপন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-১’র সদস্যরা ওই এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাব সদস্যরা সেখান থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৮

সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে। আটককৃতদের কাছ থেকে ১টি দেশীয় তৈরি শর্টগান, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি পিস্তল কভার, ১টি প্রাইভেটকার, ২টি ওয়াকিটকি সেট, ডিবি লেখা ৩টি জ্যাকেট, ৪টি ধারালো ছুরি, ১টি চাপাতি, ২০টি মোবাইল ফোন, ১টি কাটার, ১টি গ্রান্ডিং মেশিন, ১টি হেক্সব্লেড, ৮টি গাড়ীর নম্বর প্লেট, তালা খোলার ৩টি রড, ওয়াকিটকি চার্জার ৪টি এবং নগদ সাড়ে ৪হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, ২০১৩/১৪ সালে গঠিত উক্ত অপরাধ চক্রের মূল হোতা মোঃ শহিদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল। এই সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটির স্থায়ী সদস্য ১৫/১৬ জন। তারা দুইজন মিলে ডাকাত গ্রুপটিকে নিয়ন্ত্রন করত। এই চক্রের সদস্যরা ডিবি পরিচয়ে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ইত্যাদি ব্যবহার করে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, অপহরণ

ও মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। তারা গাজীপুর মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকারে ও মাইক্রোবাসে করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে স্বর্ণের দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধরণের দোকান টার্গেট নির্ধারণ করে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে ডিবি পরিচয় দিয়ে ঘুরাঘুরি করে এলাকায় ভীতি প্রদর্শণের পর ডাকাতি করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে। তারা লোকজনকে গাড়িতে তুলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো।

এছাড়াও তারা দীর্ঘ দিন ধরে গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংকের গ্রাহক, সাধারণ পথচারী, বাসযাত্রী এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের ডিবি পরিচয়ে মারধর এবং অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল, গাড়ী, টাকা-পয়সা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল ডাকাতি করে আসছিল। তারা নারী পথচারীদের ধর্ষণও করতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।