দুর্গাপূজা শুরু, আজ মহাষষ্ঠী

প্রকাশিত: 8:19 AM, October 22, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক: শারদ আবহ চারিদিকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বছরব্যাপী অপেক্ষার পালা শেষ। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। ধূপ-ধুনুচি, পঞ্চপ্রদীপ, উলুধ্বনি আর ঢাকের তালে সায়ংকালে আসনে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী দুর্গা। মণ্ডপ আর মন্দিরগুলো মুখরিত হয়ে উঠবে ভক্তদের আরাধনায়।

পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার দেবীর ষষ্ঠাদি কলারাম্ভ সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে। সকালে দুর্গাদেবীর ষষ্ঠীর ঘট বসবে ও পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যাবেলায় দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস হবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট তাপস পাল  বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূচি অনুযায়ী পুরোহিত ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন করবেন। আজ আসনে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী দুর্গা। এ নির্ঘণ্ট মেনে দেশের পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে দেবী দুর্গাকে বরণের প্রস্তুতি। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন এবং দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। করোনাভাইরাস মহামারীতে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সন্ধ্যা আরতির পর বন্ধ থাকবে মণ্ডপ : করোনা মহামারীর কারণে সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যা আরতির পর পূজামণ্ডপ বন্ধ রাখা এবং মণ্ডপ থেকে সরাসরি স্ব স্ব ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডলসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, এ বছর সারা দেশে তিন হাজার ২১৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার এক হাজার ১৮৫টি কম। এছাড়া ঢাকা মহানগরে এবার পুজোর সংখ্যা ২৩২টি। গত বছর ছিল ২৩৮টি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা পালনের আহ্বান : স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। সংগঠনের এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। করোনার কারণে এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির বা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

পূজামণ্ডপে যাওয়া সবার জন্য করোনা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে সরকার। নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মণ্ডপ ও ভক্ত পূজারীদের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই পূজা-অর্চনা করবে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সদস্যসচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নিল, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল মান্নান, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক আরমা দত্ত এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) জন গোমেজ, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার।

সাবেক রাষ্ট্রদূত একেএম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, সাবেক সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. নুজহাত চৌধুরী, জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। রাজধানীর শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এবার প্রতিদিন পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে ভক্তদের জন্য থাকছে ‘স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’।

পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করবে কয়েকটি টিভি চ্যানেল : মহানগর কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী পূজার দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করবে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল। একই সময়ে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ‘শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির’ ফেসবুক পেজ থেকে পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মিডিয়াপাড়ায় সার্বজনীন পূজা কমিটি দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এটিএন নিউজ কার্যালয়ের সামনে এ আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ আয়োজনে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাংবাদিক প্রভাষ আমিন ও মুন্নী সাহা।